আয়কর বিভাগে কোনো ফাইল নেই শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর প্রতিষ্ঠান বিএসটিসি শিপিং লিমিটেডের। তবুও একটি আয়কর সনদ বানিয়ে নেওয়া হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের নামে। সনদটি দুবার তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শেষবারের সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে খোদ আয়কর বিভাগে।
একই সনদে যে ওল্ড টিআইএন দেখানো হয়েছে, সেটি অন্য প্রতিষ্ঠানের। তার পরও এ ভুয়া সনদ দেখিয়ে বছরের পর বছর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য উঠানো নামানোর ব্যবসা করে যাচ্ছে বিএসটিসি শিপিং লিমিটেড।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারের আয়কর ফাঁকি দিতেই প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার তার ছেলে আনোয়ার হোসেন মজুমদার ও ম্যানেজার ওবায়দুল হকসহ এ জাল সনদ ব্যবহার করেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস এবং বিভিন্ন ব্যাংকে লেনদেনের ক্ষেত্রে এ জাল সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বিএসটিসি শিপিং লিমিটেড মূলত বন্দরের বহির্নোঙরে মালামাল আনলোডিংয়ের কাজ করে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে বিএসটিসি শিপিং লিমিটেড ব্যবসা করার জন্য আয়কর রিটার্নের একটি সনদ জমা দেয়। চট্টগ্রাম তিন নম্বর করাঞ্চলের (কোম্পানিজ) ৫৩ নম্বর সার্কেলে গিয়ে দেখা যায়, বিএসটিসি শিপিং লিমিটেড নামে একটি ফাইল খোলা হয়েছে। কিন্তু ওই টিআইএন এর বিপরীতে কোনো রিটার্ন দাখিল করা হয়নি।
এ সার্কেলের উপ-কর কমিশনার হিসেবে মাসুদ রানার স্বাক্ষরযুক্ত দুটি সনদ দেখা যায় বিএসটিসি শিপিংয়ের। এর একটি ২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এবং অন্যটি ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। করাঞ্চলের কর্মকর্তারা বলেছেন, দুটি সনদই ভুয়া। কারণ যে সময় মাসুদ রানাকে উপ-কর কমিশনার হিসেবে ওই সনদে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে, তার আগেই তিনি পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম কমিশনার হয়েছেন।
আয়কর বিভাগে বিএসটিসি শিপিং একটি ই-টিআইএন দেখিয়েছে যার নম্বর হলো ৪৯৯১৭৭৪১৪৬৫২/সি-৫৩ (কোম্পানিজ)। ২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এবং ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দেখানো দুই সনদে একটি ওল্ড টিআইএন দেখানো হয়েছে যার নম্বর ৩৭৬২০০৪৮৩৭। বাস্তবে দেখা যায়, বিএসটিসি শিপিংয়ের দেখানো ওই ওল্ড টিআইএনটি ‘এইচসি মেরিন লিমিটেড’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের।
আনোয়ার হোসেন মজুমদার ভুয়া সনদের পুরো বিষয়টি তার আইনজীবীর ওপর চাপান। ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবদি এ ভুয়া সনদ নিয়ে করে আসা ব্যবসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সদনটি যদি ভুয়া হয়, তা হলে এর সব দায় আমার আইনজীবীর। এটাও সত্য যে, সনদ ভুয়া হলে রাষ্ট্র কোনো আয়কর পাবে না। যেহেতু বিয়ষটি আমি বিয়ষটি জানি না, তা হলে এটার খোঁজ নিতে হবে। প্রয়োজনে আমি আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
বিএসটিসি শিপিং লিমিটেডের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার ও ছেলে আনোয়ার হোসেন মজুমদার। আয়কর বিভাগে থাকা তাদের ব্যক্তিগত নথিতেও বিএসটিসি শিপিংয়ের আয় সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৩ লাখ ২৪ হাজার ২৪৮ টন পণ্য ওঠানামা করা হয়েছে।
পিতা পুত্রের আয়কর বিভাগে সীতাকুন্ডে অবস্থিত তাদের বিটুমিন ব্যবসারও উল্লেখ নেই। জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার ও আনোয়ার হোসেন মজুমদারের ব্যক্তিগত টিআইএন নম্বর ৩৭৬৪০৫৮৪০৩৯৬/সার্কেল-৭৫, অঞ্চল ৪, চট্টগ্রাম এবং ১১৬৫২৬৯২৫৪৯৭/সার্কেল-৭৫, অঞ্চল ৪, চট্টগ্রাম।
আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ জাল সনদ ব্যবহার করে বিএসটিসি ব্যবসা করেছে। তাদের এ জাল সনদটি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: এএস