মোহাম্মদ আজমগীর প্রকাশ (কালু) একজন দিন মজুর। কোন রকম সংসারের খরচ সামলিয়ে দিনাতিপাত করে সংসার চলে তার। গত ১২ অক্টোবর ২০২১ মঙ্গলবার তার স্ত্রী মবিনা আকতার দেড় বছরের ছোট মেয়ে মাইশা আকতার মাইশাকে নিয়ে পটিয়া উপজেলা ৭নং জিরি ইউনিয়নের ১নং উত্তর দেয়াং ওয়ার্ডে অবস্থিত হাজী আম্বিয়া লিয়াকত কমিউনিটি ক্লিনিকে যায় চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য।
মাইশার মা বলেন— আমি ও আমার মেয়েকে নিয়ে কমিউনিটি হেলথ কেয়ারে যায় চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য। স্বাস্থ্যকর্মীর টেবিলে রাখা কার্বলিক এসিডের শিশির দেখতে পেয়ে তা হাতে নিয়ে খেলা করছিল মাইশা। একপর্যায়ে শিশির থেকে গায়ে পড়ে যায় এসিড। এতে করে মাইশা গুরুতর আহত হয় এবং তার শরীরের এক তৃতীয় অংশ জ্বলসে যায়। না বুঝে শিশুটি কিছু এসিড খেয়েও ফেলে।

এরপর ১২ অক্টোবর ২০২১ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৬নং ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় মাইশাকে, সেখানেও কতব্যরত ডাক্তার শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে রিলিজ করে দেন এবং এরপর থেকে গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন দেড় বছরের শিশু মাইশা।
জানা যায়, ওষুধ সামগ্রী ও এসিড শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখার সরকারি নিদের্শনা থাকলেও হাজী আম্বিয়া লিয়াকত কমিউনিটি ক্লিনিকে তা মানা হয়নি। এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে দেড় বছরের শিশু কন্যা মাইশার জীবন এখন বিপন্নের পথে।
এ বিষয়ে জানার জন্য ঐ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী শাহাজানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সকালের-সময়কে বলেন, আমার টেবিলে এসিড ছিল সেটা ঠিক, কিন্তু ছোট্ট শিশুটি এসিড নিয়ে খেলা করবে আমরা কি জানতাম। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এ বিষয়ে নিউজ করার কি আছে বলে লাইন কেটে দেন।
মাইশার মা আরো বলেন— এই ঘটনার সাথে হাজী আম্বিয়া লিয়াকত কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী কহিনুর আক্তারও জড়িত। সে তখন শাহাজানের সাথে ছিল।
ক্লিনিকের কতব্যরত ব্যাক্তি মোহাম্মদ শাহাজাহান খোলা অবস্থায় এলোমেলোভাবে এসিড রেখে দায়িত্ব অবহেলার কারণে মাইশার জীবন সংকটাপন্ন ও ক্ষতির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন মাইশার বাবা মোহাম্মদ আজমগীর প্রকাশ কালু।

তিনি বলেন— অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো প্রকার অভিযোগ আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ছোট্ট শিশুকে আরও বিপদের মুখে টেলে দেন তারা, বর্তমানে মেয়েটির সারা শরীরে পচন ধরেছে। আমরা খুবেই দুঃচিন্তাই আছি কখন কি হয়ে যায়। আমার মেয়ে মাইশার বর্তমান অবস্থা খুবেই খারাফ। তার জীবন সংকাটাপন্ন হওয়ার পিছনে দায়ী ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর্মী মোহাম্মদ শাহাজাহান।
এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সল আহমেদ সকালের-সময়কে বলেন, আমি এই বিষয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি, তবে-এটা একটা ফৌজদারি অপরাধ, আমি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নিতে বলেছি, এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চাইলে এ বিষয়ে আদালতে মামলা করতে পারবে।
তবে— সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সংকটাপূর্ণ শিশুর ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিশু অধিকার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করেছেন শিশুর বাবা দিন মজুর মোহাম্মদ আজমগীর প্রকাশ কালু।
সকালের-সময়/এমএফ