সরকার কা মাল, দরিয়ামে ঢাল!


১০ নভেম্বর, ২০২০ ১০:৫৫ : পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পছন্দের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই ঘুরে ফিরে এমএসআর (মেডিক্যাল সার্জিক্যাল রিএজেন্ট), নন এমএসআর ও ডায়েটের পণ্য সরবরাহ করে আসছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেই অভিযোগ বহু পুরোনো।

তার সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে চমেকের বাণিজ্যিক কয়েকটি স্থাপনা বিনা টেন্ডারে ইজারা দেয়া। যেগুলো থেকে এক পয়সাও পাচ্ছে না সরকার। শর্ত অনুযায়ী, হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার পূর্ণ জনবল নিয়োগ না করে দীর্ঘদিন ধরেই মাসশেষে তুলে নেয় বিপুল অংকের অর্থ। অভিযোগ আছে চমেক হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ব্লাড ব্যাংকেও। সেখানের আয়-ব্যয়ের হিসেবেও আছে গরমিল। যার সাথে যুক্ত স্বয়ং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরাই।

এন্তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চমেক হাসপাতালের পরিচালক, ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল শাখার অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে নথি তলব করেছে দুদক। একই সাথে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান বারবার কার্যাদেশ পাওয়ার কারণ ও ব্যাখা চাওয়া হয়েছে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে।

এছাড়া হাসপাতালে কর্মরত তিন কর্মচারীর নিয়োগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে। এরমধ্যে চমেক হাসপাতালকে ২০ নভেম্বর ও ব্লাড ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে সকল তথ্য সরবরাহ করতেও বলা হয়েছে তলবকৃত চিঠিতে। চমেক হাসপাতাল, ব্যাংক ও দুদকের বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতের নানান অনিয়মের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হলে একের পর এক অভিযোগের স্তূপ পড়ে যায়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ চমেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। যেখানে বিনা টেন্ডারে ঠিকাদার নিয়োগ, তথ্য গোপন করে কর্মচারী নিয়োগ, আয়রন ও ওয়াশিংয়ের নামে ভুয়া বিল পরিশোধ, জনবল নিয়োগ না দিয়ে শুধু তালিকা দেখিয়ে অর্থ তুলে নেয়া, ব্লাড ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের হিসেব গরমিল করাসহ প্রচুর অভিযোগ যুক্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে তৃতীয়বারের মতো চিঠি দেয়া হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

চিঠি দেয়ার বিষয় স্বীকার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. তানজিলা তাবিব চৌধুরী বলেন, ‘দুদকের একটি তদন্ত চলছে, তাদের অফিসিয়াল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিঠি এসেছে। আগেও এসেছিল, এখনও আসছে।’

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে ২০১৮-২০১৯ ও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ব্লাড ব্যাংকের ভাউচারসহ মাসিক আয়-ব্যয়ের তালিকা, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কোন পরীক্ষা নিরীক্ষার আয়ের হিসাব এবং কর্মরত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বাইরে ব্যবসা করে থাকলে তার রেকর্ডপত্র।

একই সাথে ব্লাড ব্যাংকে কর্মরত দুই মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ব্যক্তিগত নথিও তলব করা হয়েছে। তথ্য চাওয়া হয়েছে চমেক হাসপাতালের ৩য়, ৪র্থ ও নার্সিং সমিতি এবং মেডিকপসের নামে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের গত ৩ বছরের হিসাব বিবরণী এবং প্রত্যেকটি হিসাবের লেনদেনের তথ্য।

এছাড়া, হাসপাতালে এমএসআর, নন এমএসআর ও ডায়েটের ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে চুক্তিপত্র, আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত জনবলের তালিকা ও হাজিরা খাতা, হাসপাতালের প্রধান গেটে অবস্থিত ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের টেন্ডারিং নীতিমালা, সকল ক্যান্টিন, গ্রোসারি শপসহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারের যাবতীয় তথ্য, লিনেন স্টোরে ওয়াশিং ও আয়রন বাবদ বিল পরিশোধের এবং কাজ পাওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম এবং কর্মরত সকল কর্মচারীর যাবতীয় তথ্য।

এছাড়া বয়স জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. তাকবির হোসেনের এসএসসি সনদের সত্যায়িত কপি, এনআইডি কার্ড, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কপিসহ নিয়োগের যাবতীয় নথিও চাওয়া হয়েছে।

সূত্র: ডিপি/এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ