সনদ বেচেই কোটিপতি সিডিএ’র পরিকল্পনাবিদ!


২৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:২২ : অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আবু ঈসা আনসারী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ (ভারপ্রাপ্ত) ও নগর পরিকল্পনাবিদ-২। তিনি আবার ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন-সংক্রান্ত চারটি কমিটির প্রধান ও। ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে ভূমি ব্যবহার সনদ দিয়ে এবং বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানিকে ভবন নির্মাণে অনৈতিক সুযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

গত এক বছর ধরে এবিষয়ে দুদক ঈসা আনসারীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন সংস্থার চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদ। তিনি অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ব্যাংক-বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের তথ্যমতে, সিডিএর উপ-নগর-পরিকল্পনাবিদ আবু আনসারীর বিরুদ্ধে দুদকে যে অভিযোগ জমা পড়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, তিনি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ও বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানিকে সুবিধা দিয়ে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করছেন। তার ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, দামি গাড়ি ও ব্যাংকে মোটা অঙ্কের টাকা রয়েছে।

কমিশন এ অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদকে দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি অভিযোগ-সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে গত ২৫ মে ব্যাংক-বীমা, সিটি করপোরেশন, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রাজউক চেয়ারম্যানের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আবু আনসারী, তার স্ত্রী তাহেরা রুম্মন, তার ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট ও দোকান থাকলে তার নথি দুদকে দাখিলের জন্য রাজউক চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। রাজউক জানিয়েছে, ঢাকা আবু আনসারীর কোনো ফ্ল্যাট বা প্লট নেই। দুদক আবু আনসারীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে গত বছরের মার্চে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সিডিএর চেয়ারম্যান, সদস্য, সচিব, প্রধান প্রকৌশলীসহ বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দা। ফলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে অন্য এলাকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোণঠাসা করে রাখেন তারা। নগর-পরিকল্পনাবিদ-২ মোহাম্মদ আবু আনসারী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা। তিনি আঞ্চলিকতার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ২০১৯ সালে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে সিডিএর নগর-পরিকল্পনাবিদ-২ থেকে উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

এরপরই থেকেই সিডিএর আওতাধীন এলাকার ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও ভবনের নকশা অনুমোদন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি সিডিএর ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন-সংক্রান্ত চারটি কমিটির প্রধান। তিনি যেসব কমিটির সভাপতি তার মধ্যে রয়েছে সিডিএর ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান কমিটি, দশতলার বেশি উচ্চতাসম্পন্ন ভবনের নকশা অনুমোদন-সংক্রান্ত বৃহদায়তন বা বিশেষ কমিটি, দশতলার কম উচ্চতাসম্পন্ন পৃথক দুটি ইমারত নির্মাণ অনুমোদন কমিটি।

গুরুত্বপূর্ণ এসব দায়িত্বে থাকায় তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার সিন্ডিকেটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করলে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণকারী ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের হয়রানি করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে সিডিএর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কথা বললে তাদের তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের একজন উপপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সিডিএর উপ-নগর-পরিকল্পনাবিদ আবু আনসারীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধান কর্মকর্তা এ অভিযোগ-সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ব্যাংক-বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সিডিএ, রিহ্যাব, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। আবু আনসারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য শিগগিরই তলব করা হবে।

এই কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন কমিশনে দেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য আবু আনসারীকে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ধরেননি। মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।

এসএস/ফোরকান

0Shares

আরো সংবাদ