শীর্ষ চোরাকারবারির গোডাউনে র‍্যাবেব হানা, এক’শ টন চোরা কাপড় জব্দ


১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:৪১ : পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগরীর দেওয়ানহাট এলাকা হোসেন স্প্রীং গলি সুপারি পাড়া এলাকায় দু’টি গুদামে র‍্যাব-৭ও ভন্ড কমিশনার যৌত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তৈরি গার্মেন্ট পণ্য জব্দ করেছে। এই গুদাম দুটি স্থানীয় ‘আইয়ুবের গোডাউন’ নামে পরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে এসব পণ্য ইপিজেড এর ডন হুমায়নের মাধ্যমে চোরাইপথে গোডাউনে এনে মজুদ করে রেখেছিল।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইপিজেটের ডন, চোরাকারবারি, স্থানীয় ব্যারিস্টার কলেজ এলকার হুমায়নের সহযোগিতায় আইয়ুব, টিপু, সামশুসহ এই অবৈধ কাজের সাথে জড়িত থাকলেও বন্ড কমিশনারেট বা কাস্টমস গোয়েন্দাদের বিষয়টি নজরে আসেনি। পরে বিষয়টি র‍্যাব-৭ জানার পর থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) এর তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার গভীর রাতে গুদামটি সিলগালা করে ভন্ড কমিশনারেট। মঙ্গলবার সকালে র‌্যাব, বন্ড কর্মকর্তাদের দলটি সব গার্মেন্ট পণ্য গণনা করতে গেলে গোডাউনের মালিক এস এম আইয়ুব আলীসহ তার সাঙ্গুপাঙ্গুরা পালিয়ে যায়। পরে তালা ভেঙে সকাল থেকে পণ্য গণনা শুরু করেন র‍্যাব ও ভন্ড কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুটি গোডাউনে একশ টন গার্মেন্ট পণ্যের সন্ধান মিলেছে। তবে সেগুলোর দাম কত এবং কত শুল্কফাঁকি রয়েছে তার হিসাব বের করতে বুধবার পর্যন্ত সময় চেয়েছে ভন্ড কমিশনার। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্ড কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মাহফুজুল হক ভূঁইয়া র‌্যাবের তথ্যের ভিত্তিতে গোডাউনের মালিক এস এম আইয়ুব আলী ও র‌্যাব কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম বন্ড কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গোডাউন সিলগালা করে দেয়।

এক রাত পর সকালে নির্ধারিত সময়ে গোডাউন খুলতে গেলে আইয়ুব আলী পালিয়ে যান। র‌্যাব কর্মকর্তারা তার বাড়িতে গিয়েও তাকে না পেয়ে সিলগালা করা তালা ভেঙে তার গোডাউনে প্রবেশ করেন এবং দিনভর হাজার বস্তার মাল গণনা করেন। তিনি বলেন, আমার কাছেও সন্দেহ হচ্ছে, গুদাম মালিক যদি অনিয়ম না করতেন, তিনি পণ্যের বিপরীতে কাগজপত্র দেখাতেন। কিন্তু সেটি না করে তিনি পালিয়ে গেছেন।

র‌্যাব-৭ সহকারী পুলিশ সুপার মাশকুর রহমান বলেন, সকালে বলেছিলেন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব কাপড়ের গুদামে অভিযান চলছে। যেখানে গার্মেন্ট কাপড়ের রোল ও তৈরি পণ্য পাওয়া গেছে। এসময় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আইয়ুব আলীর ৬ তলা ভবনকে গুদাম বানিয়ে বেশিরভাগ ফ্লোরেই এসব কাপড় রেখেছেন।

গুদামে পাওয়া একশ টনের বেশি কাপড় সবই বিদেশি। কিন্তু সেই পণ্য বন্ডেড সুবিধায় আনা নাকি চট্টগ্রাম ইপিজেড বা বিভিন্ন বন্ড সুুুুবিধায় অবৈধভাবে বের করা সেটি তদন্তের পর জানা যাবে। তবে আইয়ুব আলীর নামে কোন বন্ড প্রতিষ্ঠান নেই। নির্জন স্থানে বাঁশ গাছের পাশে বড় টিন শেটের বড় গোডাউন ও পাশে ৬ তলা ভবন পুরোটায় আইয়ুবের অবৈধ গার্মেন্টস মালামাল রেখে তা পাচার করত বিভিন্ন জায়গায়।

সকালের-সময় / এম এফ

0Shares

আরো সংবাদ