নিজস্ব প্রতিনিধি : মিরসরাইয়ে শিল্পজোনে অভিযান চালিয়েছে র্যাব। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ এর নেতৃত্বে র্যাবের অর্ধ শতাধিক সদস্য অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানটি গতকাল (৯ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২ পর্যন্ত পরিচালিত হয়। অভিযানে কারখানায় উৎপাদিত ১০ হাজার লিটার চোলাই মদ, মদ তৈরির কয়েকটন বিভিন্ন উপকরন ও কিছু গাজা উদ্ধারের পর গাঁজাগাছগুলো ধ্বংস করেন।
তবে র্যাব চাইনিস বা চিনো হারবারের কাওকে আটক করতে সক্ষম না হলেও দুই বাংলাদেশিকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন, বান্দরবানের লামা উপজেলার শরীফুল ইসলাম (২৫) ও খুলনার দাকোপ থানার রিপন (২৭)।
জানা যায়, বেপজা কর্তৃক পরিচালিত মিরসরাই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক জোনের মেঘা প্রজেক্ট তথা অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের গুরুত্বপূর্ন চাইনিস ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার অবকাঠামো উন্ননের আড়ালে বাণিজ্যিক ভাবে চোলাইমদ উৎপাদনও বিপনন করে আসছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ শিল্প জোনটিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার সুবিধা পেয়ে আসছে বিদেশি কোম্পানি গুলি। তাদের ব্যবহৃত স্থানগুলিতে কোন বাংলাদেশিদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না।
বাংলাদেশিদের দেখা মাত্রই আলিবাবা আলিবাবা (চোর চোর) বলে তাচ্ছিল্যের সাথে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এখানে এখনো কোন মিল কারখানা বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চালু করতে পারেনি।
কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা আর গোপনীয়তার সুযোগ নিয়ে এখানে বিশাল চোলাই মদের কারখানায় হাজার হাজার লিটার মদ উৎপাদন করে কোটি টাকার অবৈধ গোপন বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।
সিনো হারবারের বিশাল মদ তৈরির কারখানাটিকে আন্তর্জাতিক চোলাই মদ তৈরির কারখানাও বলতে পারেন। যেখানে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার লিটারের বেশি। এখান থেকে প্রতিদিন ৮/১০ হাজার লিটার চোলাই মদ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
এছাড়া স্থানীয়ভাবে যোগান দেওয়া হয় প্রায় ৪/৫ হাজার লিটার। এখান থেকে প্রতিদিন সরবরাহকৃত মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা!! আশ্চর্য আর অকল্পনীয় হলেও এটাই সত্য।
চায়না হাবারর ইঞ্জিনিয়ারিং কনেসট্রাকশন নামের চায়না কোম্পানিটি মূলত মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পজোনের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত। ইকোনমিকজোনে তাদের তত্তাবধায়নে প্রায় ৫ শতাদিক চাইনিস কাজ করছে এ এলাকায়।
এই বিশাল কর্মী বাহিনীর নিজস্ব মদের যোগান দিতেই মূলত মদের কারখানাটি গড়ে তুলেছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশে মদের ব্যপক চাহিদা বুঝতে পেরে বাণিজ্যিক আকারে উৎপাদন শুরু করে ও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ শুরু করে।
সাম্প্রতিক র্যাবের বিভিন্ন অভিযানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তাদের উৎপাদিত চোলাই মদ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত চোলাই মদের বোতলের গায়ে চায়না অক্ষরে লিখা লেবেল পাওয়া যায়।
সেই সূত্র ধরে র্যাব-৭ গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়।
এস এস/