শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বৈদ্যুতিক পাম্প ক্রয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ২৫ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক পাম্প কেনা হয়েছে ১২ গুণের বেশি দাম দেখিয়ে ৩ কোটি টাকায়, দুদকের প্রতিবেদনে এমন এক জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে ঠিকাদার ও পিডিবি’র প্রকৌশলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশও করেছে দুদক।
জানা যায়, বৈদ্যুতিক পাম্পগুলোর দাম ২৫ লাখ টাকা, কিন্তু সরকারের কাছ থেকে নিয়েছে তিন কোটি টাকা। ১২ গুণ বেশি দামে দুটি বৈদ্যুতিক পাম্প কিনেছে চট্টগ্রাম শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুদক বলছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতেও কারসাজি করা হয়েছে। দুর্নীতির এমন দালিলীক তথ্য মিললেও পিডিবির ক্রয় পরিদপ্তরের পরিচালক মনে করেন কেনাকাটায় সবই ছিলো ঠিকঠাক।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ক্রয় পরিদপ্তরের পরিচালক সাইদ একরাম মোল্লা বলেন, একজন অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক তদন্ত করছে। এখানে আমার কোন বক্তব্য নাই। এখানে তেমন দুর্নীতি হয়নি বলে আমার ধারণা।
এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২ গুণ বেশি দাম দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা এরা লোপাট করেছে, এ অভিযোগের কারণে পাওয়ার টেক ইন্টারন্যাশনালের মালিক আব্দুল আলীম, শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী ভূবন বিজয় দত্ত, পিডিবি’র প্রতিষ্ঠান নেসকো লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী এ এইচ এম কামালসহ মোট ছয়জনকে দায়ী করে কমিশনের কাছে মামলার সুপারিশ চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি জানার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আর এদিকে শুধু চট্টগ্রামের শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আরো কয়েকটি প্রকল্পেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যেগুলোর অনুসন্ধান করছে দুদক।
সকালের-সময়/এমএফ