চুক্তিপত্রে দেড়শ বর্গফুট দোকানের কথা থাকলেও প্রতিটি দোকান বর্ধিত করা হয়েছে ২’শ বর্গফুটে। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা সংকুচিত করে বসানো হয়েছে দোকানের সিট। তাছাড়া চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে গড়ে তোলা হয়েছে দ্বিতল ভবন!
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিল্পব উদ্যানে এসব অনিয়ম পরিদর্শন করতে যান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’র (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। এসময় উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে নির্মিত দোকানের বর্ধিত অংশ ভেঙ্গে ফেলা এবং চুক্তি লংঙ্ঘিত হওয়ায় এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন চসিক প্রশাসক।
এসব অনিয়ম ও অসঙ্গতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চুক্তির বাইরে গিয়ে কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক চিন্তা ভাবনায় এই কাজ করতে দেয়া যায় না। এই বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও চসিকের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
উভয় পক্ষ যতদিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না ততদিন এই অবৈধ দোকান বন্ধ থাকবে। অন্যথায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে। চসিকের সকল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শুধুমাত্র নগরবাসীর স্বার্থে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চসিকের সৌন্দর্যবর্ধন ও নগরায়নে জনগণের স্বার্থের জন্য করতে হবে।
শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থে কোন কিছু করার সুযোগ নেই। কেউ যদি নগরবাসীর স্বার্থের বিপরীত কর্ম সম্পাদনে লিপ্ত হয় তাদের আজকের এই কর্মসূচী থেকে সাবধান হওয়া উচিত। বিল্পবের উদ্যানে পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে স্কুটি যোগে টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয় থেকে বিল্পব উদ্যানে গিয়েছিলেন প্রশাসক। যাত্রাপথে তিনি রাস্তায় গর্ত দেখে সেগুলো দ্রুত ভরাট করার জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেন।
অন্যদিকে ২নং গেইট কবরস্থানের পাশে বালির স্তুপ দেখে আজকের মধ্যেই অপসারণ করার জন্য পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে নির্দেশনা দেন। তাছাড়া ২নং গেইটের পাশে মসজিদ গলিতে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য প্রকল্প পরিচালককে অনুরোধ করেন।
এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রকৌশলী আলী আশরাফ, প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রিফর্ম লি. ও স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্ট এর স্বত্বাধিকার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিপ্লব উদ্যান সৌন্দর্যবর্ধন কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছেন।