লোহাগড়ায় রাস্তা নির্মাণে বালুর পরিবর্তে কাঁদামাটি ব্যবহার!


৪ মে, ২০২৩ ১:৫৪ : পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় রাস্তা নির্মাণে বালুর পরিবর্তে কাঁদামাটি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। অপরদিকে, নিয়ম অনুযায়ী কার্যস্থলে নির্মাণকাজের বিবরণ সংবলিত সাইনবোর্ড দৃশ্যমান থাকার কথা থাকলেও তা টাঙানো হয়নি। ফলে এই কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বুধবার (৩ মে) সকালে উপজেলার কলাউজান এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়ার কলাউজান গাবতল-পুটিবিলা পহরচাঁন্দা সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইড) আওতাভুক্ত। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮শ’ মিটার সড়কটি প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পেয়েছে এলজিইডি’র তালিকাভুক্ত লোহাগাড়ার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাবতল-পহরচাঁন্দা সড়ক নির্মাণ কাজটি অত্যন্ত নিম্নমানের। দরপত্রের নিয়ম না মেনে কাজ হচ্ছে ঠিকাদারের ইচ্ছে মতো।

এলাকাবাসীর অভিযোগ কোন মতেই আমলে নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়ম হচ্ছে জেনেও রহস্যজনক কারণে নীরব উপজেলা প্রকৌশলী। সঠিক তদারকি না থাকায় ঠিকাদার তার ইচ্ছেমতো কাজ করে যাচ্ছে। বালুর পরিবর্তে কাঁদামাটি ব্যবহার করে ইতিহাস রচনা করেছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করতে বালুর পরিবর্তে পুকুরের পলিমাটি (কাঁদামাটি) ব্যবহার করলেও দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় ওয়াহিদুল আলম বলেন, গাবতল-পহরচাঁন্দা সড়ক কয়েকযুগ ধরে সংস্কার হয়নি। পুটিবিলা ও কলাউজান ইউনিয়নের সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় এমপি সাহেবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সড়ক সংস্কারের টেন্ডার হয়। ঠিকাদার নিজেকে প্রভাবশালী দারি করে কাজ শুরু করে বালুর বদলে কাঁদামাটির ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি একটি ঘৃণিত কাজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার কবির আহমদ বলেন, ‘রাস্তা সংস্কারের কাজ পান অন্য ঠিকাদার। তার থেকে কাজের দায়িত্ব নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সংস্কার কাজ শুরু করি এবং ইট নিয়ে আসা হয়। লোহাগাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় বালু না পেয়ে কাঁদাযুক্ত বালু ক্রয় করা হয়। তবে বালুর পরিবর্তে মাটি এসেছে। গত মঙ্গলবার কাঁদামাটিযুক্ত বালু দেখে এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করলে সংস্কার কাজ বন্ধ রাখি।

বালুর পরিবর্তে কাঁদা মাটি ব্যবহার কেন করা হচ্ছে— এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাত বিন মুনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কবির কন্ট্রাক্টর রাস্তা সংস্কার কাজে বালুর পরিবর্তে কাঁদামাটি ব্যবহার করার খবর পেয়ে বুধবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

একইসঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাঁদামাটি সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। বালুর পরিবর্তে কাঁদামাটি ব্যবহার দেখে খুবই দুঃখ পেয়েছি। ঠিকাদার কাজ শুরু করবে সেটিও আমাদেরকে জানা হয়নি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র—সিভি

0Shares

আরো সংবাদ