বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিধি লঙ্ঘন করে কঠোর গোপনীয়তায় পদোন্নতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আবার শনিবার ও আগের দিন শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে ওই কমিটি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে বৈঠকে বসে। পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন ও যাবতীয় কার্যক্রম সতর্কতা ও অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আওতাধীন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের প্রমোশনের জন্য পদোন্নতি নীতিমালা-২০১৭ রয়েছে। এই নীতিমালা ভঙ্গ করে পছন্দের লোকদের দিয়ে নতুন করে পদোন্নতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নীতিমালা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উপমহাব্যবস্থাপক (এম-১), সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এম-২) ও ব্যবস্থাপক (এম-৩) গ্রেডে পদোন্নতির জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আহ্বায়ক করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি, বিপিসি প্রতিনিধি, সব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পার্সোনেল বিভাগের প্রধানের সমন্বয়ে কমিটি-১ গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।
একইভাবে উপব্যবস্থাপক (এম-৪), সহকারী ব্যবস্থাপক (এম-৫), সিনিয়র অফিসার (এম-৬) ও অফিসার (এম-৭) গ্রেডে পদোন্নতির জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোনীত একজন মহাব্যবস্থাপককে আহ্বায়ক করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি, বিপিসি প্রতিনিধি, সব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পার্সোনেল বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপকের সমন্বয়ে কমিটি-২ গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।
পাশাপাশি নীতিমালায় বলা হয়েছে, কমিটির সদস্যদের মধ্যে কোনো কর্মকর্তার পদশূন্য থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু বর্তমান পদোন্নতি কমিটি-১ ও কমিটি-২ গঠনের সময় কোনোটিতেই এই নীতিমালা মানা হয়নি।
কমিটি দুটিতেই অডিট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (চলতিদায়িত্ব) আরশাদ আজগর চৌধুরী, একাউন্টস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাসুদুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (ইএন্ডডি) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের (ডিএলও) ইনচার্জ ডি জি এম মো. মাহিদুর রহমানকে বাদ দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যমুনার এক কর্মকর্তা জানান, তিন-তিনটি বিভাগীয় প্রধানকে বাদ দিয়ে পদোন্নতি কমিটি করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন। তাছাড়া কমিটি গঠন থেকে শুরু করে ছুটির দিনে সভা করা সব কার্যক্রমেই গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়েছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে গঠিত কমিটি কীভাবে এতবড় পদোন্নতির সভা ও সুপারিশ করে তা বোধগম্য নয়। নিশ্চয়ই এতে বড় আকারে ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এই দুটি কমিটি ও তাদের সুপারিশসহ সব কার্যক্রম বাতিল করা উচিত। বিধি মোতাবেক নতুন করে কমিটি গঠন করা উচিত।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারী আগে বিপিসিতে জি এম (অপারেশন্স ও কমার্শিয়াল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২ বছর আগে তিনি যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কোম্পানিতে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়। ব্যাংক লেনদেন, বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগ, টেন্ডার কোনো কিছুতেই নিয়ম মানা হয় না।
অন্যদিকে পদোন্নতি কমিটির সচিব কোম্পানির ডি জি এম (এইচ আর) মো. মাসুদ করিম ২০১২ সালে দুদকের করা বিটুমিনসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় আটক হন ও প্রায় দেড় মাস কারা ভোগ করেন। সরকারি ছুটির দিনে পদোন্নতি কমিটি বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেন পদোন্নতি কমিটির সদস্য মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি উপসচিব মো. হাসানুজ্জামান।
পদোন্নতি নীতিমালা ভঙ্গ করে কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ বিষয়ে কোম্পানির কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলে ভালো হয়। তবে এ বিষয়ে জানতে পদোন্নতি কমিটির সচিব কোম্পানির ডিজিএম (এইচ আর) মো. মাসুদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সকালের-সময়/এম ফোরকান