চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের বিরুদ্ধে শ্বাসকষ্টের রোগীকে হাই ফ্লো ক্যানেলা অক্সিজেন না দিয়েও ১৩ দিনে ৭ লাখ টাকার ভুতুড়ে বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ১৩ দিনে চিকিৎসার নামে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৯ টাকা বিল করেছ এই পাষণ্ড হাসপাতালটি।
জানা যায়, শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসার নামে ৪৬ বছর বয়সী মোঃ সেলিমকে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অক্সিজেন প্রয়োজন বলে পরামর্শ দিয়ে পার্কভিউ হাসপাতালে ম্যানেজার তালুকদার জিয়ার রহমান শরীফের রেফারেন্সে ভর্তি করা হয়।
পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই রোগীর স্বজনরা জানতেন না জিয়াউর রহমান শরীফ তাদের সাথে বিলে প্রতারণা করবেন। ১৩ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর মারা যাওয়া ওই রোগীর বিলে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার বিল যুক্ত করা হয়। কিন্তু পরে জানা যায় রোগীকে অক্সিজেন দিতে আদতে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ব্যবহারেই হয়নি। শুধু হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার চার্জই নয় আরও বিভিন্ন ভুয়া খরচ দেখিয়ে ১৩ দিনে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৯ টাকার বিল করে হাসপাতালটি।
পরে ৭ দফায় সাড়ে ৬ লাখ বিল দেয়ার পরও এক টাকা ডিসকাউন্ট দেয়নি হাসপাতালটি, মৃত মোঃ সেলিমের পরিবার বলছেন কোন রকমের ছাড় না দিয়ে বরং বিভিন্ন ভুয়া খাতে বিলের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে আমাদের। যাকে এক কথায় প্রতারণার বিল বলছেন মোঃ সেলিমের পরিবার।
স্বজনরা জানিয়েছেন, মোঃ সেলিম গত (৪ জুলাই) রাত ৯ টাই শ্বাসকষ্ট নিয়ে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন (১৭ জুলাই শক্রুবার) সকাল ১১ টা ৪৭ মিনিটের সময় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুইদিন পর তার করোনা পজেটিভ আসে।
মৃত মোঃ সেলিমের খালাত ভাই রেজাউল করিম মিঠুন সকালের-সময়কে বলেন, মোঃ সেলিম গত ১৩ দিন ধরে পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। উনাকে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ। হাসপাতাল থেকেও আমাদের বলা হয় উনাকে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মৃত্যুর পর কেবিনে গিয়ে আমি তেমন কোন মেশিন না দেখায় তাদের জিজ্ঞেস করি।
তখনও তারা আমাকে বলে যে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দেওয়া হয়েছে। পরে যখন আমি চ্যালেঞ্জ করি, তখন তারা জানায় মেশিন ব্যবহার করেনি। অথচ বিলে এই বাবদ চার্জ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫শত টাকা। পরে তাদেরকে বিল কমানোর জন্য আকুতি মিনতি করলেও তারা ১ টাকা ও বিল কমাইনি।
বিলে দেখা যায়, কনসালটেন্ট বিল বাবদ ২৮ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে তাদের নিজস্ব ডাক্তার না থাকলে কেন রোগী ভর্তি করালেন? আবার ১৩ দিন অক্সিজেন বিল করেছে তারা দুইবার। একবার ৭৭ হাজার টাকা। আবার ১ লাখ ৩০ হাজার ৫ শত টাকার বিল দিয়েছে। এতো অক্সিজেন বিল কিভাবে আসে? এছাড়াও সার্ভিজ চার্জের নামে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৫৩ টাকা বিল করেছে।
আরও দেখা যায়, মেডিসিন ও ইনজেকশন বাবদ ১ লাখ টাকা বিল করেছে হাসপাতালটি। কিন্তু রোগীর খালাত ভাই বলেন আমরা সব মেডিসিন ও ইনজেকশন বাহির থেকে কিনে দিয়েছি। তবুও হাসপাতালটি বিল করেছে। তাহলে আমাদের দিয়ে কেন মেডিসিন ও ইনজেকশন কিনিয়েছেন? এটা প্রতারণা নয় কি???
সরাসরি হাতেনাতে এমন প্রতারণা ধরা খেয়ে এই বিষয়ে নিউজ না করার জন্য প্রতিবেদককে বার বার অনুরোধ করেন হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ। তিনি অসঙ্গতির কথা বলে পরবর্তী এই ধরনের ভুল হবে না বলে প্রতিবেদককে বার বার অনুরোধ করেন। তাদের এই বিলে দেখি অনেক অসঙ্গতি অনেক অনিয়ম।
সরাসরি ম্যানেজারের সাথে কথা বলে ৭লাখ টাকার বিল থেকে প্রায় অর্ধেক ভুতুড়ে বিল বের করেছি। পরে তিনি আমাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু কথা হলো যে রোগীকে যে সেবা দেওয়ার দরকার তা না দিয়ে কী ধরনের চিকিৎসা তারা করছে তা এক মাত্র আল্লাহতালা ছাড়া কেউও জানে না।
তার ওপর এই ধরনের ভুয়া বিলের ব্যাপারে যতাযত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, এসবের প্রতিকার হওয়া দরকার। অথচ! সিকিৎসা সেবার নামে রোগীকে পার্কভিউ হাসপাতালে ভুতুড়ে বিল দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই হাসপাতালের এডমিন ব্লক।
এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সকালের-সময়কে বলেন, এটা অন্যায়, মিথ্যা বিল দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া এটা সিকিৎসা নামের প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। তাই তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। প্রতিনিয়তই যেহেতু এই হাপাতালটির বিরুদ্ধে ভূতুরে বিল ও রোগী মৃত্যুসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে আমরা যতাযত ব্যবস্থা নেব।
সকালের-সময়