চট্টগ্রাম নগরীর টেরীবাজারের ব্যবসায়ী সাঈদ রহিম ও অপর ব্যবসায়ী মোঃ কায়ছার দুইজনই কাপড়ের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। তারা পরস্পর ব্যবসায়ী এবং উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক লেনদেনও রয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বিগত কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তুচ্ছ মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টিকে পুঁজি করে অসদুদ্দেশ্যে একটি স্বার্থন্বেষী মহল নানান অপপ্রচারে লিপ্ত বলে জানান অভিযোগকারী মোঃ কায়ছার নিজেই।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ব্যবসায়ী সাঈদ রহিমের সাথে আমার ব্যবসায়িক একটা মনোমালিন্য ও বাড়াবাড়ি হয়েছে। এ বিষয়টি এলাকার এক ছাত্রলীগ নেতার সাথে আলাপ করি আমি। তখন তিনি ও সাবেক একজন ছাত্রদল নেতা আমাকে একটা কোর্ট জিডি করে রাখার পরামর্শ প্রদান করলে আমি এতে সম্মতি দিই।
তখন তাদের উভয়ের পরামর্শ ও তাদের নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে আগেথেকে সবকিছু প্রস্তুত করে রেখে বিগত ৩ মার্চ ২০২১ আমাকে নিয়ে তারা চট্টগ্রাম আদালতে উপস্থিত হয়। উক্ত ছাত্রলীগ নেতা আইনজীবীর টাইপকৃত একটা কাগজে আমাকে তিনটি স্বাক্ষর করতে বলে।
তখন আমাকে কিছুসময় পর আদালতে দাড়িয়ে অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী বিস্তারিত জানালে আমি উভয়সংকটে পড়ে যায়। আমার অনিচ্ছা থাকার সত্ত্বেও তাদের চক্রান্তে শিকার হয়েছি বুঝতে পারলেও তৎক্ষনাৎ আমার করণীয় কিছুই ছিলোনা।
তাদের চক্রান্ত আমি বুঝতে পেরে উভয় পক্ষের অভিভাবক ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় বিরোধ আপােষে নিস্পত্তি করে ৭ মার্চ অভিযোগটি বিনা প্ররোচনায় প্রত্যাহার করে নিয়েছি এবং সকল প্রকার অপপ্রচারের তিনি নিজেই বিব্রতবোধ হচ্ছে বলে জানান মোঃ কায়ছার।
এ ব্যাপারে টেরীবাজারের ব্যবসায়ী সাঈদ রহিম জানান, ব্যবসায়িক ভুলবোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হওয়া একটি তুচ্ছ সাধারণ বিষয়কে আলোচিত করতে পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে একটি কুচক্রীমহল। দুইজন ব্যবসায়ীর মনোমালিন্যকে ভিন্নরূপে উপস্থাপন করতে অভিযোগকারী ব্যবসায়ী কায়ছারকে কৌশলে এবং পরবর্তীতে চাপ সৃষ্টি করে একটি মহল তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল।
ব্যবসায়ী কায়ছার নিজেই যখন বুঝতে পেরেছে তাকে বলীর পাঠা বানানো হচ্ছে তখন স্ব প্রণোদিত ভাবে সে তার অবিভাবকদের নিয়ে এসে বিষয়টি নিষ্পত্তি সহ অভিযোগটি প্রত্যাহার করে এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছেন কায়ছার।
ব্যবসায়ী কায়ছার বলেন, সাঈদ রহিমের সাথে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে আমার। বিগত কয়েকদিন আগে তার সাথে একটা ছোটখাটো ভুলবোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। এঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি কুচক্রীমহলের প্রচরণা ও চাপ সৃষ্টিতে আমি ৩ মার্চ ২০২১ আদালতে একটা অভিযোগ দায়ের করি।
পরবর্তীতে স্বাভাবিক ভাবে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে আমি দুঃখ প্রকাশ সহ এ ঘটনাটিকে যারা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে টেরীবাজারের একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একই স্থানে ব্যবসা করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহ ছোটখাটো ভুলবোঝাবুঝি হওয়াটা একেবারে স্বাভাবিক। এই ছোটখাটো বিষয়টাকে যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল তারা কেউ ব্যবসায়ী না। অসদুদ্দেশ্য এ ঘটনাকে পুঁজি ভিন্ন কোনো স্বার্থহাসিল করতে চেয়েছিল তৃতীয় পক্ষ।
একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে সমঝোতার চেষ্টা না করে এটাকে বাড়িয়ে বলে অপপ্রচার করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অপরাধের শামিল। নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়ে গণমাধ্যমে ভুল তথ্য পরিবেশন করা নিঃসন্দেহে অপরাধ।
সকালের-সময়/এমএফ