আইনমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত রেলের সংরক্ষিত সেলুন কারে বিধি লঙ্ঘন করে ভ্রমণ করেছেন বিভাগীয় ট্রেন কন্ট্রোলার (পাহাড়তলী) মো. শাহিদ হোসেনসহ রেলওয়ের তিন কর্মী। বাকি দুজন হলেন সহকারী পরিদর্শক (গ্রেড-২) ওয়ালি উল্লাহ সুমন ও বিভাগীয় প্রকৌশল অফিসের হিসাবরক্ষক মো. মাসুদুর রহমান। গত ২৭ জুন আইনমন্ত্রী আখাউড়া থেকে ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ভ্রমণের সময় এ ঘটনা ঘটে।
চাকরি বিধিমালা ভঙ্গ করে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে শাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা তারেক মুহাম্মদ ইমরান তাকে অভিযুক্ত করেছিলেন। বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও আছে তার নামে। ওয়ালি উল্লাহ সুমনের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বিলাসবহুল সেলুন কার দুটি কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। পরিদর্শন গাড়ি হিসেবে এবং বাণিজ্যিকভাবে। ভিভিআইপি ও ভিআইপি ব্যক্তিদের চাহিদার ভিত্তিতে ট্রেনের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হয়। সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সচিবরা সেলুন কার ব্যবহার করে থাকেন। কোচটি সংরক্ষিত এবং এর যাত্রীদের কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী ছাড়া এতে কারও প্রবেশের সুযোগ নেই।
সেলুন কারের এটেন্ডেন্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আমি প্রথমবার সেলুনে দায়িত্ব পালন করেছি। দুজন লোক সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তাদের বাধা দেই। কিন্তু এসি অপারেটর মোহাম্মদ সেলিম তাদের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন। আমি জানতে চাইলে বলে, ‘আমি তাদের চিনি। সমস্যা নাই’।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সেলুনে কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। তারা কীভাবে প্রবেশ করল, সেটি আমার বুঝে আসছে না। ঘটনা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।
সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. আবিদুর রহমান। তিনি বলেন, সেলুন কারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। মন্ত্রী মহোদয়ের জন্য বরাদ্দকৃত কোচে যেসব কর্মচারী অবস্থান করেছেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
এটেন্ডেন্ট জাহাঙ্গীর বলেন, শাহিদ হোসেন, ওয়ালি উল্লাহ ও মাসুদুর রহমান কুমিল্লা স্টেশন থেকে সেলুনে প্রবেশ করে। কয়েকটি স্টেশন পরে তারা বেরিয়ে যায়।
সূত্র—এএস/ফোরকান