বায়েজিদে মসজিদের জায়গা দখলের পাঁয়তারা, থানায় অভিযোগ!


২৩ জুন, ২০২০ ৮:৪৮ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার ভূমিদস্যু ও ১০ মামলার আসামি আবদুল কুদ্দুস বাপ্পী ওরফে কানা কুদ্দুস। তিনি যুবলীগের রাজনীতি করতেন। একই এলাকার আরেক ভূমিদস্যু ‘ছালে আহম্মদ জিয়া’ ওরফে ছালে। তিনি আবার রাজনীতি করেন যুবদলের। তবে দু’জনের রাজনীতির আদর্শ ভিন্ন হলেও দখলবাজি ও ভূমিদস্যুতা করেন একসাথে। মরণঘাতী করোনার মাঝে এবার তারা কোমর বেধে নেমেছে জায়গা দখল করতে। তাও আবার মসজিদের সাত কাঠা জায়গা!

চট্টগ্রাম নগরীর বাংলাবাজার এলাকার সমবায় অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত পূর্বাচল আবাসিক সোসাইটির কোটি কোটি টাকার মসজিদের এই সাত কাঠা জায়গা দখল করতে পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। মসজিদের জায়গায় বহুতল ভবন করে বাণিজ্যক ব্যবসা করার পরিকল্পনা করছেন এ দুই ভূমিদস্যু।

মসজিদের সাত কাঠা জায়গা দখলের অভিযোগে নগরীর বায়েজিদ থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন পূর্বাচল সমবায় বসতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো: এস এম হারুন চৌধুরী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্বাচল সমবায় বসতি লিমিটেডের জামে মসজিদ টিনের বেড়া বেষ্টিত টিনের ছাউনীযুক্ত মসজিদটি বর্তমানে করোনা রোগের লকডাউন চলার সময়ে তারা পরস্পর যোগসাজশে উক্ত মসজিদটি জোরপূর্বক ভাঙ্গিয়ে বহুতল ভবন নির্মানের পরিকল্পনা করে। সরকার ঘোষিত ছুটির কারণে এবং নিজ নিরাপত্তার কারণে যাতায়াত না করার এই সুযোগে তারা উক্ত রুপে জঘন্য পরিকল্পনা করছে। ইতি মধ্য তারা মসজিদটি ভেঙ্গে পেলেছে এবং ভবণ নির্মানের প্রস্তুতি গ্রহন করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে জানা যায়, মসজিদের সম্পত্তি নিয়ে বর্তমানে ৫ সহকারী জর্জ আদালত চট্টগ্রামে অপর ৪৮/৯৯ ইং নং স্বত্বের মামলা চলছে। এবং মামলা সাক্ষ্য গ্রহনের পর্যায়ে আছে। অন্যদিকে এই ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মাননীয় ৩য় যু্গ্ম জেলা জর্জ আদালতে মসজিদের পূর্ব পাশের সম্পত্তিতে অবৈধভাবে জোরপূর্বক নির্মিত ভবন ভেঙ্গে দখল করে পেলায় সেই জায়গা উদ্ধারের জন্য ৫৬৫/২০১৬ ইং তারিখে মামলা রুজু করা হয়। বর্তমানে মামলাটিও বিচারধীন আছে।

বর্তমান আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা সকলে যোগসাজশে মসজিদের সম্পত্তি দখল করার কু-পাঁয়তারা করছে। তারা কেউও সমিতির সদস্য নয়। ও তাদের কোন স্বত্ব দখল নাই। এমতাবস্থায় সমিতির সদস্যগনের পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে যথাযত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত ১৭/৬/২০ বায়েজিত থানার ওসি বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন মো এস এম হারুন চৌধুরী।

জানা যায়, কানা কুদ্দুস ও ছালে আহম্মদ জিয়ার বিরুদ্ধে বায়েজিদ এলাকায় পাহাড় কাটা, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি, খুন, অস্ত্রসহ একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বায়েজিদ থানার ওসি প্রিটন সরকার সকালের-সময়কে বলেন, কুদ্দুস ও জিয়ার বিরুদ্ধে
পূর্বাচল আবাসিক সোসাইটির সাধারন সম্পাদক হারুন থানায় অভিযোগ করার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না গেলেও মসজিদের একাংশ ভাঙা অবস্থায় পায় পুলিশ। এরা টিনের স্থাপনা ভেঙে সেখানে নতুন বহুতল বানিজ্যিক ভবন তৈরি করার পায়তারা করছে বলে জানা যায়। অপরাধী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে
তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পূর্বাচল সোসাইটির সভাপতি মো. দিদারুল আলম সকালের-সময়কে বলেন, এই মহামারী করোনার সময় সাধারণ মানুষ পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী ছালে আহম্মদ জিয়া ও কানা কুদ্দুসরা সোসাইটির মসজিদের জায়গাটি দখল করে নিয়েছে। এতে সোসাইটির পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হলেও তারা আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

পূর্বাচল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হারুণ চৌধুরী সকালের-সময়কে বলেন, ভূমিদস্যু কানা কুদ্দুস ও ছালে আহম্মদ জিয়া মসজিদের জায়গা দখল করে নেয়ার পর বায়েজিদ থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ এসে তা পরিদর্শন করে গেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল কুদ্দুস বাপ্পী ওরফে কানা কুদ্দুস ও ছালে আহম্মদ জিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রিয় পাঠক..কানা কুদ্দুস ও সালে আহম্মদ জিয়ার আরও একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে আগামী পর্বে, সাথে থাকুন….

0Shares

আরো সংবাদ