ফ্লাইওভারে আলো জ্বালানোর খরচ যোগাতে বিলবোর্ড বসাচ্ছে চসিক। তবে ডিজিটাল এ বিলবোর্ডের আলোর ঝলকানিতে রাস্তায় গাড়ি চালানো দুরূহ হয়ে উঠছে। ফ্লাইওভারের নিচে বিলবোর্ডের এই অভিনব সংস্করণে গাড়ি চালকদের সামনে নতুন বিপত্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে ডিজিটাল টিভিস্ক্রিন।
গত কয়েকদিন ধরে নগরীর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের জিইসি থেকে লালখান বাজার অংশের নিচে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ডিজিটাল টিভিস্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গাড়িচালকসহ নগরবাসীর মাঝে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে সিটি কর্পোরেশন বলেছে, জনগণের সমস্যা হলে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের জিইসি থেকে লালখান বাজার অংশে আইল্যান্ডের উপর বিশেষ কায়দায় বেশকিছু ফ্রেম বসানো হয়েছে। এসব ফ্রেমে টিভিস্ক্রিন বসিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কয়েকটি ফ্রেমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।
অন্য ফ্রেমগুলোতে দুইটি টেলিফোন নম্বর দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফ্লাইওভারের দামপাড়া, ওয়াসা মোড় ও পুনাক ভবনের কয়েকটি ডিজিটাল স্ক্রীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ম্যাক্স গ্রুপ নামের প্রতিষ্ঠান চসিকের সাথে চুক্তির প্রেক্ষিতে বিজ্ঞাপন প্রচারে ডিজিটাল টিভি স্ক্রীন স্থাপন করেছে। চসিকের নির্দেশনার আলোকেই ফ্রেমগুলো তৈরি করা হয়েছে। এসব বিজ্ঞাপনের আয় থেকেই ফ্লাইওভারের বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থার পাশাপাশি বাগানসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পরিচালিত হবে।
ডিজিটাল ফ্রেমে দেয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বিজ্ঞাপন প্রচারে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এজন্য চসিককে এককালীন ও বার্ষিক বড় অংকের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ডিজিটাল টিভিস্ক্রিনের আলোর ঝলকানিতে রাতে রাস্তায় গাড়ি চালানো দায় হয়ে উঠেছে। একাধিক চালক জানান, তীব্র আলোর কারণে সামনে কি আছে দেখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
শফিউল আযম নামের একজন চালক গতকাল বলেন, আগে বিলবোর্ড উপরে ছিল। আকাশ দেখা যেতো না। নতুন এ বিলবোর্ড রাস্তা দেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, এখনো পর্যন্ত কেউ এধরনের অভিযোগ করেনি। আমাদের চালকদের সাথেও কথা বলেছিলাম, তারা তেমন সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে। এরপরও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব। এক্সপার্ট দিয়ে বিষয়টা দেখা হবে। প্রয়োজনে চুক্তি রিভিউ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ম্যাক্সের সাথে সৌন্দর্যবর্ধন চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় তাঁরা ডিজিটাল স্ত্রীন বসাচ্ছে। সেখানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করা হবে, সাথে বাণিজ্যিক বিষয়ও থাকতে পারে।
তবে বিজ্ঞাপন বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে ম্যাক্স গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল পলাশ সকালের-সময়কে বলেন, ম্যাক্স গ্রুপ বিজ্ঞাপন প্রচারে ডিজিটাল টিভি স্ক্রীন স্থাপন করেনি। এখানে ম্যাক্স গ্রুপ বিন্দু পরিমান জড়িত নেই, সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন এ ব্যাপারে ভাল করে জানে। আপনারা এদের ব্যাপারে নিউজ করেন। তাহলে কারা এগুলা করেছে আপনি জানেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে মারমুখী হুমকি দিয়ে বলেন তুমি আমাকে চিনো, আমি তোমাকে চিটাং ছাড়া করব…।
সূত্র:ডিএ/এসএস