পূর্ব রেলের বিদ্যুৎ বিভাগে চলছে রমরমা বাণিজ্য, সক্রিয় সিন্ডিকেট!


২০ জানুয়ারি, ২০২২ ২:৫৪ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পূর্বাঞ্চল রেলের বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অবৈধ সংযোগের কারণে রেলওয়েকে বহন করতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল। আর এ দিকে বিভিন্ন কলোনি, বাজার, ঝুপড়ি ঘর ও দোকানে প্রচুর অবৈধ সংযোগ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী-পাতি নেতা সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এই বিভাগের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান (সিইই) ও সাকের আহমেদ (ডিইই) মিলে গিলে খাচ্ছে এই বিভাগকে। আর এইসব কাজে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় কথিত নেতা, বড় ভাই, এবং এই বিভাগের অসাধু কর্মচারীদের ইন্ধনেই চলছে বিদ্যুৎ বিভাগে রমরমা বাণিজ্য।

সূত্র জানায়—বিভাগীয় বিদ্যুৎ প্রকৌশলী (ডিইই) সাকের আহমেদ প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কাজ থেকে। আর অসাধু ঠিকাদার ও সাপ্লাইয়াররা দিচ্ছেন বিভিন্ন কাজের মোটা অংকের টাকা।

কর্মকর্তা-কর্মচারী-ঠিকাদার-সাপ্লাইয়ার সিন্ডিকেট যেন পিছু ছাড়ছে না এ বিভাগকে। যার কারণে প্রতিমাসেই প্রচুর পরিমাণ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে সরকারের।

রেল সূত্র জানায়, বিভাগীয় এই বিদ্যুৎ প্রকৌশলী (ডিইই) সাকের আহমদের একছত্র আধিপত্য যেন এখানে ওপেন সিক্রেট। তিনি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যোগসাজসে বাসাবাড়ি, অফিস, কলোনি, দোকানপাট, ঝুপড়ি ঘরে দিয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। আর এসব সংযোগের জন্য পিডিবিকে রেলের পক্ষ থেকে বিল দিতে হয় প্রায় কোটি কোটি টাকা।

জানা যায়, অবৈধ সংযোগের কারণে গত তিন বছরে গরমকালে কমপক্ষে ১০টির মত ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। প্রতিটি ট্রান্সফরমার ৫০০ ও ৩৫০ কেবি’র। এভাবে বিদ্যুৎ ওভারলোড হয়ে ট্রান্সফরমার নষ্ট হলেও মিস্ত্রি বা রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না রেল কর্তৃপক্ষ। উল্টো রেলের অবৈধ সংযোগের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারো বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বদলির হুমকি দেয়া হয়।

আরো জানা যায়, সাব-স্টেশন, লাইন, প্যানেল বোর্ড, ইলেক্ট্রিক লাইন, ট্রান্সফরমার, সাবমারসিবল ডীপ, বাসা বাড়ির লাইন, রেলের বিভিন্ন অফিসের লাইন, ইয়ার্ডের লাইনের কাজসহ একাধিক কাজে কর্মকর্তা-ঠিকাদার মিলে লোপাট করেছেন কোটি কোটি টাকা।

আর—এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের অবৈধ আয়ের ভাগ পান টাইগারপাস সাব-স্টেশনের ইনচার্জ ও পাহাড়তলী বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের সিনিয়র উপ-প্রকৌশলী (এসএসএই) বিটু চাকমা। তার বিরুদ্ধেও সম্প্রতি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়তলী হাসপাতাল কলোনি, পাহাড়তলী বাজার, টাইগার পাসের মাজার কলোনি, পাহাড়তলী, পাঞ্জাবি লেন, মাস্টার লেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীচে ঝুপড়ি, সিআরবি এফও বাংলো, পাম্পের দুই পাশে, বিজিএমইএ ভবনের পাশের ঝুপড়ি, শহীদ লেন, মালিপাড়া কলোনি, সেগুনবাগান, কালিবাড়ি বস্তি, ওয়াটার ওয়াক্সের পেছনের ঝুপড়ি, সিআরবি গোয়ালপাড়া, ডিজেল কলোনি, টিপিপি কলোনি, পলোগ্রাউন্ড কলোনি, এক্সিএন কলোনি ও পাহাড়তলী আরএনবি ব্যারাকের পেছনে প্রচুর অবৈধ সংযোগ আছে। এসব কলোনি, বাজার, ঝুপড়ি ঘর ও দোকান দিনরাত বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত থাকলেও বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বইতে হচ্ছে রেলকেই।

এ বিষয়ে জানার জন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বিদ্যুৎ প্রকৌশলী (ডিইই) সাকের আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি।

বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতির বিষয়ে জানার জন্য সিইই- হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে তার কাছে প্রশ্ন না করে এজিএম জোবেদা আক্তারকে প্রশ্ন করার জন্য বলে লাইন কেটে দেন।

প্রিয় পাঠক: এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী-ঠিকাদার ও সাপ্লায়ারদের আরো অনিয়ম দুর্নীতির খবর জানতে আগামী পর্বে চোঁখ রাখন…

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ