পাহাড়খেকো ও বিতর্কিত কাউন্সিলর জসিম সাময়িক বরখাস্ত


২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ৪:২১ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের পাহাড়খেকো হিসেবে সমালোচিত-বিতর্কিত কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তিনি উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সিটি করপোরেশন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আব্দুর রাফিউল আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চসিক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের বিরুদ্ধে নগর পুলিশের আকবর শাহ থানার জিআর মামলা নম্বর ২৫ (০১) ২৩-এর চার্জশিট আদালত কর্তৃক গৃহীত হওয়ায় তাকে স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর ধারা ১২ (১) অনুযায়ী স্বীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

জানা যায়, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের গাড়িতে ঢিল ছোড়া ও হুমকি দেওয়ার মামলায় অভিযোগপত্রে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরুল আলমকে ১ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে।

গত বছরের ২৬ জানুয়ারি বেলার প্রধান নির্বাহী রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে বেলার একটি প্রতিনিধি দল আকবর শাহ থানা এলাকায় পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শনে গেলে কাউন্সিলর জহুরুল ও তার সহযোগীদের মারমুখী আচরণের শিকার হন। এ ঘটনায় রিজওয়ানা হাসান আটজনের বিরুদ্ধে আকবর শাহ থানায় মামলা করেন।

পুলিশ গত বছরের ১২ জুন ছয়জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে কাউন্সিলর জহুরুলকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন- জহুরুলের সহযোগী বিল্লাল হোসেন, আবু নোমান, সাইফুদ্দিন ভূঁইয়া, আনিছ চৌধুরী ও মো. শাকিল। তাদের মধ্যে নোমান ছাড়া অন্যরা জামিনে আছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন আকবর শাহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহেদ উল্লাহ জামান।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পাহাড় কাটা এলাকা পরিদর্শনে গেলে কাউন্সিলর জহুরুল আলমের নেতৃত্বে আসামিরা বেলার প্রধান নির্বাহীসহ প্রতিনিধিদলকে বাধা দেয়, গাড়ি আটকে রাখে ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। পরে আটকে রাখা সেই গাড়ি পুলিশ গিয়ে ছাড়িয়ে নেয়।

এদিকে—নগরীর পূর্ব ফিরোজ শাহ এলাকার এইচ ব্লক মোড়ে এক সিরামিকস, ক্রোকারিজ ও মুদি মালামাল বিক্রেতা ফেরিওয়ালাকে মারধর করে চাঁদাবাজির অভিযোগে ও মামলা হয়েছিল জসিমের নামে। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারি হিসেবে পরিচিত।

সাবেক মেয়রের মেয়াদকালেই নগরীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কৈবল্যধামের বেশ কিছু জায়গা অবৈধভাবে দখল করা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মারধর ও হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের বিরুদ্ধে।

তখন স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীগন সিটি মেয়রের অফিস ঘেরাও এবং জেলা প্রশাসনের কাছে এই বেদখলের প্রতিবাদে স্মারকলিপি দেয়ার পর বাধ্য হয়ে কিছুটা নিবৃত্ত হয়েছিলেন। কিন্তু পাহাড় কাটা, জায়গা দখল ও জলাশয় দখল ও বন্ধ করা থেমে থাকেনি এই করিৎকর্মা আওয়ামীলীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর আকবর শাহ থানার লেকসিটি আবাসিক এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগে কাউন্সিলর জসিম ও তার স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল পরিবেশ অধিদফতর। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি উত্তর পাহাড়তলীর সুপারি বাগান এলাকায় পাহাড় কাটা ও ছড়াখাল দখল পরিদর্শনে যাওয়া বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের গাড়িতে হামলার অভিযোগ এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে।

গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় নগরীর আকবর শাহ থানার বেলতলীঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে একজন নিহত ও চারজন আহত হন। ১১ এপ্রিল সেই পাহাড় কাটার অভিযোগে কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন প্রকৌশলীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করে পরিবেশ অধিদফতর।

অগ্রণী ব্যংক অফিসার্স কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি’র প্রায় ১১ একর আয়তনের পাহাড়টি কেটে সড়ক নির্মাণ করছিল সিটি করপোরেশন। আর এ কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন কাউন্সিলর জসিম। গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা না মেনে চসিক তাদের কাজ অব্যাহত রাখার একপর্যায়ে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

এরই মধ্যে গত ২৯ এপ্রিল নগরীর আকবর শাহ থানার উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের পাহাড় কেটে নির্মাণাধীন গরুর খামার গুঁড়িয়ে দেয় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের একটি টিম। সেসময় অবশ্য এই কাউন্সিলর জসিম ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে অনেক অনুনয়-বিনয় করেছিলেন ওই গরুর খামার উচ্ছেদ না করার জন্য। তবে তাতে কোন কর্নপাত করেননি দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট।

সকালের-সময়/ফোরকান

0Shares

আরো সংবাদ