জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে চলমান পরিবহন ধর্মঘটে চট্টগ্রামেও বাসসহ বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ আছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাসের কাজ। তবে পণ্য ডেলিভারি না হলেও জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা চলমান আছে। শুক্রবার ভোর থেকে বন্দরে পণ্য খালাসের কোনো গাড়ি ঢুকতে বা বের হতে দেখা যায়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বন্দরে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে বন্দরের বাকি কার্যক্রম। জাহাজে মালামাল লোড-আনলোড স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়াও বন্দর থেকে বিভিন্ন ডিপোতে মালামাল আনা-নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার এমনিতেই গাড়ি কম বের হয়। তবে ধর্মঘট চলমান থাকলে বন্দরের ওপর এর প্রভাব পড়বে।
চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাঈন উদ্দিন বলেন, গাড়ির মালিকপক্ষ আমাদের গাড়ি চলাতে না করেছে, তাই আমরা গাড়ি চালাচ্ছি না। আমাদের দাবি তেলের দাম হয় কমানো হোক, না হয় গাড়ি ভাড়া বাড়ানো হোক। তেলের যা দাম বেড়েছে, তা দিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বন্দর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পণ্য নিয়ে গাড়ি চলাচল করেছে। এরপর থেকেই পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আশা করছি সরকার মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে এ সমস্যার সমাধান করবে।
গত বুধবার (৩ নভেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। নতুন দাম ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। যা কার্যকর হয় ওইদিন রাত ১২টা থেকে।
এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। ডিজেল-কেরোসিনের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলেও জানান তারা।
সকালের-সময়