নিজস্ব প্রতিনিধি: পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নাজমুল সাকের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মহিলা গত ২৪ জানুয়ারী দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি/সেক্রেটারী বরাবর এই অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন— গত দুই বছর আগে নাজমুল সাকের সিদ্দিকীর সাথে আমার
পরিচয় হয়। এর সুবাদে সে বিভিন্ন সময় আমার নাম্বারে ফোন দিয়ে আমার সাথে কথা বলত। এবং পরবর্তীতে সে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে। এক পর্যায়ে সে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে।
এরপরে—সে দীর্ঘদিন আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় নানান অজুহাতে আমার কাছ থেকে নগদ টাকা ধার হিসেবে নিত, যা এক পর্যায়ে ৩ লক্ষ টাকার সমপরিমাণে দাঁড়ায়। এরপরও সে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে আশা সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছ থেকে নগদ ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
কিন্তু—কমিটিতে আসার পরেও বিভিন্ন প্রোগ্রামের কথা বলে সে টাকা নিত। এক পর্যায়ে আমি তাকে আর টাকা দিতে অপরাগতা জানালে আমার সাথে তার সম্পর্কে অবনতি ঘটে। যার ফলে সে আমাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও মানসিক চাপে রাখে ও পূর্বের টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে—আমি যোগাযোগ করতে চাইলে সে বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে এড়িয়ে চলে। এর এক পর্যায়ে আমি গোপনে খবর নিয়ে তার সাথে দেখা করতে গেলে পটিয়া কলেজ গেইটের সামনে তাকে দেখতে পাই। তখন সে আমাকে জনসাধারণে সামনে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে। এরপর স্থানীয় লোকজন বাকবিতন্ডা দেখে এগিয়ে আসলে সে সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে পটিয়া ছবুর রোড দিয়ে পালিয়ে যায়।
মহিলাটি আরো উল্লেখ করেন—নাজমুল সাকের সিদ্দিকীর অপকর্মের কারণে আজ আমার জীবন বিপন্নের পথে। তার এই অপকর্মের কারণে পুরো সংগঠনের বদনাম হচ্ছে। তিনি একজন চরিত্রহীন স্বভাবের ছেলে, বিভিন্ন মেয়েদের সাথে সেই প্রতারণা করে আসছে। যার কারণে আমি সর্বপ্রথম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি-সেক্রেটারীকে অভিযোগ দিয়েছি তারা কি করে দেখি, না হয় আমি আইনের আশ্রয় নিব।
ধর্ষণ ও প্রতারণার বিষয়ে জানার জন্য পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক নাজমুল শাকের সিদ্দিকীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের-সময়কে বলেন—জেলা ছাত্রলীগ বরাবর আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ দিয়েছে এক মহিলা, সেটা আমাকে সভাপতি বলেছে। কিন্তু মহিলাটিকে আমি চিনি না। বিষয়টি শুনার পর আমি পটিয়া থানায় একটা অভিযোগ করেছি।
শাকের আরো বলেন—আমি যেহেতু উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়কের দায়িত্বে আছি আমাদের মধ্য রাজনৈতিক মতবিরোধ ও গ্রুপিং আছে। স্বাভাবিক সেটা আমার সাথে থাকবেই। হয়তো সেটা আমার কমিটি করাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে সেটা থানায় না দিয়ে জেলা ছাত্রলীগকে দিবে কেনো। মহিলাটিকে আমি থানার ওসি সাহেবকে দিয়ে অনেকবার ফোন করিয়েছি, তিনি আসবে বলে-আসবে বলে আর আসেনি।
এ বিষয়ে জানার জন্য দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের-সময়কে বলেন—আমাদের বরাবর এক ভুক্তভোগী মহিলা ধর্ষণ ও বিভিন্ন প্রতারণামুলক কাজের একটি অভিযোগ দিয়েছে। আমরা তার কাছ থেকে তথ্য প্রমান চেয়েছি। কিন্তু তিনি তা এখনো দেয়নি। যার কারণে নাজমুল শাকের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।
এ বিষয়ে জানার জন্য পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এসএস/এমএফ