নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বন্দর থেকে সড়কপথে পণ্য পরিবহন (ডেলিভারি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কনটেইনার জট সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে আমদানি-রফতানি ব্যাহত হতে পারে। এ নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার ধর্মঘটের প্রথম দিন দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর থেকে সড়কপথে কোনো পণ্য পরিবহন হয়নি। যদিও প্রতিদিন এখান থেকে সারা দেশে প্রায় চার হাজার কনটেইনার পরিবহন করা হয়। ধর্মঘট আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকলে বন্দরে কনটেইনার জটের সৃষ্টি হতে পারে। বন্দরের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কনটেইনার রাখা হলে স্বাভাবিক পণ্য ওঠা-নামা ব্যাহত হবে।
বন্দর সূত্র জানায়, জেটিতে জাহাজে পণ্য ওঠা-নামা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান না চলায় বুধবার সকাল থেকে বন্দর ইয়ার্ডে পণ্য ডেলিভারি বন্ধ হয়ে যায়। শুধু বন্দর ইয়ার্ড নয়, আশপাশে গড়ে ওঠা ১৯টি বেসরকারি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) থেকেও কোনো পণ্য আনা-নেয়া সম্ভব হয়নি।
উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম সকালের-সময়কে বলেন, ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হলে রফতানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমদানি পণ্য যথাসময়ে হাতে না পেলে শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকট দেখা দেবে এবং উৎপাদন ব্যাহত হবে।
নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে। সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অবিলম্বে ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক সকালের-সময়কে বলেন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান না চলায় বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। বন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে ৪৯ হাজার কনটেইনার রাখার সংস্থান রয়েছে। এখানে মঙ্গলবার ৩৫ হাজার কনটেইনার ছিল। বুধবার ডেলিভারি না হওয়া আরও প্রায় চার হাজার কনটেইনার যুক্ত হয়েছে।
আইসিডি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন শিকদার সকালের-সময় বলেন, বুধবার রফতানি পণ্যবোঝাই এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার কনটেইনার এবং ৯০০ খালি কনটেইনার আইসিডি থেকে বন্দরে নেয়ার কথা ছিল। বন্দর থেকে এক হাজার আমদানি কনটেইনার ও এক হাজার খালি কনটেইনার আইসিডিতে আনার কথা ছিল।
কিন্তু সকাল থেকে পণ্যবাহী যানবাহন না চলায় এসব কনটেইনার পরিবহন করা যায়নি। বিপুল পরিমাণ রফতানি পণ্যের স্তূপ জমে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আজ জাহাজে কোনো পণ্য তোলা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় শিপমেন্ট বাতিল হতে পারে। শিপমেন্ট বাতিল হলে ব্যবসায়ীদের বিশাল ক্ষতি হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ সকালের-সময়কে বলেন, ধর্মঘটে তৈরি পোশাক শিল্প বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়মতো শিপমেন্ট না হলে অর্ডার বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ক্ষতি হবে অপূরণীয়।