চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী। এসব প্রার্থীদের কারণে রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন মনোনয়ন প্রাপ্ত দলীয় প্রার্থীরা। অধিকাংশ বিদ্রোহীরা নির্বাচনী মাঠ ছাড়বেন না বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করেছেন। এনিয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে দলের নীতি নির্ধারকরা বৈঠকের ডাক দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করলেও তার কোন সুফল মেলেনি।
দলীয় সুত্রে জানা যায়, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে দলের মনোনয়ন হারা হয়েছেন অনেকে। সেই কারণে চসিকের নির্বাচনী দলীয় বৈঠকে গত বৃহস্পতিবার বিদ্রোহীরা উপস্থিত থাকার পরও সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেনি তারা। একাধিক প্রার্থী দলীয় কোন বর্তমান পদে না থাকলেও আবার বিদ্রোহীদের মধ্যে বির্তকিত প্রার্থীও রয়েছেন। এসব কারণে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তরা ঘরের শত্রুর কারণে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার শঙ্কা করছেন বেশি।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা তালিকা ধরে সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চলছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। ইতিমধ্যেই অনেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী র্যাব ও পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা তালিকায় চট্টগ্রামের পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা ও ২ জন জনপ্রতিনিধির নাম আসায় বিষয়টি চট্টগ্রামেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসায়ীদের ৯০ জনের তালিকায়ও নাম রয়েছে আলকরণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক সোলাইমানের।
জানা যায়, রেয়াজউদ্দিন বাজার শ্রমিক মালিকদের একটি অংশ তারেক সোলাইমান নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। যার কারণে তারেক সোলেমানের নাম উঠে এসেছে স্বরাস্ট্র মন্ত্রাণালয়ের তালিকায়। কারণ ঐ সংগঠনগুলোর অনেকেই ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত এবং ষ্টেশন রোড় ভিত্তিক আরো একটি অংশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ থাকার কারণে তারেক সোলাইমান সেলিমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে তার নাম যুক্ত হয়েছে।
আরো জানা যায়, সিটি কলেজ ভিত্তিক ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রক তিন মূল নেতার মধ্যে একজন তারেক সোলাইমান সেলিম। এ কলেজে বর্তমানে ছাত্রলীগের তিন-চারটি গ্রুপ হয়ে যাওয়ায় এর একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রন করেন তিনি। যার কারণে আধিপত্য দরে রাখতে তিনি বিদ্রোহ প্রার্থী হিসেবে মাঠ গরম করছেন।
সুত্র জানায়, সম্পত্তির বাগ-বাটোয়ারা নিয়ে শালিসি বৈঠকের জেরে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন এক ভূক্তভোগী। গত (২৭ আগস্ট মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে আলকরণ দুই নম্বর গলির মরহুম আব্দুল মান্নানের মেয়ে মমি আক্তারের স্বামী মো. জাহেদ এ মামলা করেন। মামলায় কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিমের সাথে বাদি জাহেদের চাচা শ্বশুর আব্দুল সোবহানকেও আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহ প্রার্থী তারেক সোলায়মানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
জানা গেছে, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর পদে প্রার্থীতা বহাল রাখলে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদও থাকবে না, এমন হুঁশিয়ারি এসেছে নগর আওয়ামী লীগের এক সভায়। তবে দল থেকে মনোনয়ন প্রার্থীদের দাবি, বিদ্রোহীরা সবাই নানাভাবেই বির্তকিত।
আ: লীগের দলীয় ও নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চসিক নিার্বচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বর্তমান কাউন্সিলর দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও প্রায় ১৯ জন বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে কমিশনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫ জন বর্তমান কাউন্সিলর মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ তারিখ ছিল ১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মার্চ। এছাড়া ৯ মার্চ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ। ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন..ইভিএময়ে।
সকালের-সময়/এম এফ