আমদানিকারক ঘোষণা ছিল শূন্য শুল্কের কাঁচা তুলা। কিন্তু আমদানি করা হয়েছে উচ্চ শুল্কের (৮৯ শতাংশ শুল্ককর) সোফার কাপড়। এসহাক ব্রাদার্স কনটেইনার ডিপোতে খালাসের সময় মিথ্যা ঘোষণার ৪০ হাজার ৫০২ কেজি কাপড় আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্মকর্তারা।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এসব কাপড় আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সকালের-সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের জুবিলী রোডের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ই এন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে কাঁচা তুলা আমদানি করে। ৪১ হাজার ১২০ কেজি কাঁচা তুলা খালাসের জন্য আমদানিকারক প্রগতি কার্গো সার্ভিস নামক সিএন্ডএফ এর মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেন।
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষে খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে ৪০ ফুট উচ্চতার কনটেইনারটি খালাসের জন্য এসহাক ব্রার্দাস কনটেইনার ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হয়। কাঁচা তুলার আমদানি শুল্ক শুন্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি শূন্য শুল্কের পণ্য খালাসের জন্য প্রাইভেট কনটেইনার ডিপোতে নিয়ে যাচ্ছে দেখে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। নজরদারি বাড়ানো হয়।

তিনি জানান, বুধবার রাত ১১টার সময় সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রগতি কার্গো সার্ভিস এর প্রতিনিধি গোপনে কনটেইনার খুলে পণ্য ট্রাকে লোড করছেন। এসময় ডিপো কর্মকর্তাদের সহায়তায় কাস্টমস কর্মকর্তারা কনটেইনারটি আটক করেন।
ইনভেন্ট্রি করে দেখা যায়, এতে এক হাজার ৫৭৬ রোল সোফার কাপড় রয়েছে, যার ওজন ৪১ হাজার ১২০ কেজি। সোফার কাপড়ের আমদানি শুল্ককর ৮৯ শতাংশ। এ হিসেবে আমদানিকারক প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকার শুল্ককর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

সহকারী কমিশনার জানান, বর্তমানে কাস্টম হাউসের এআইআর ও ডিপো কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে শতভাগ ইনভেন্ট্রি কার্যক্রম চলমান। আমদানিকারকের বিরুদ্ধে করফাঁকি ও মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট এর লাইসেন্স বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমদানিকারকের প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।
সকল প্রকার করফাঁকি রোধ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ করে সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার সর্বদা বদ্ধপরিকর, অগ্রবর্তী ও সাহস বলে জানান সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এসএস