চলছে শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশা। এরই মধ্যে দেখা দিচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ সর্দি জ্বর, কাশি ও নিউমোনিয়া। শীতের সময় হাঁপানি রোগীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। হাড় কাঁপানো শীত যেনো পিছু ছাড়ছে না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের চর্মরোগ। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে একটু। তবে সচেতন হলে এসব রোগ থেকে বাঁচা যায়। শিশুদের এ ধরনের রোগ থেকে বাঁচাতে মায়েদের বেশি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রামের বাইরেও শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় কোল্ডস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জেলায় জেলায় দরিদ্র সাধারণ মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোথাও কোথাও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কাপড় বিতরণ করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে পটিয়া থেকে আসা শিশু ইয়াছমিনের (৬) মা নাহিদা বেগম জানান, তার মেয়ে ৪ দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। রাতে জ্বর বেড়ে যায়। নাক দিয়ে পানি ঝরছে। কাশিও রয়েছে। বুকে গর গর শব্দ হচ্ছে।
ফার্মেসিতে ডাক্তার দেখালে প্যারাসিটামল ও ঠাণ্ডার একটি সিরাপ দেন। কিন্তু ওই ওষুধ খাওয়ানোর পরও ইয়াছমিন সুস্থ হয়নি। তাই তিনি শিশু মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে এসেছেন। শুধু ইয়াছমিন নয়, চট্টগ্রাম মেডিকেলের শিশু এবং মেডিসিন বিভাগে এরকম অনেক রোগীই ছিল।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতের শুরুতে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নবজাতকরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। তবে শিশুদের ৩টি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে—যদি কোনো শিশুর সর্দি, জ্বরের সঙ্গে কাশ, বুকে গর গর শব্দ হয়, আর যদি দেখা যায় শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, তাকে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। কারণ ঠাণ্ডা জ্বরের সঙ্গে বুকে গর গর ও শ্বাসকষ্ট হওয়াটা নিউমোনিয়ার লক্ষণ।
ভাইরাল ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শিশুরা এখনও যেসব রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে নিউমোনিয়া।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতের সময় অনেক শিশুই নিজে নিজেই পরনের কাপড় খুলে ফেলে। এটি যাতে করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঠাণ্ডার সময় ঘরের বাইরে গেলে শিশুদের মাথায় টুপি ও পায়ে মোজা পরিয়ে রাখা ভালো। শহরের শিশুদের বাথরুমে গোসল করানো হলেও গ্রামের শিশুদের করানো হয় বাইরে। শিশুদের ঘরের ভেতর হালকা গরম পানিতে গোসল করানো ভালো।
আর শীতে শিশুদের দেখা দেয় ‘কমন কোল্ড’ জনিত রোগ। এই রোগগুলো হচ্ছে, সর্দি, হাঁচি, কাশি, জ্বর, মাথাব্যথা, গা মেজমেজ করা ইত্যাদি। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। দুই তিন দিন পর তা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। বর্তমানে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর এর কারণ হচ্ছে ঋতু পরিবর্তন।
তিনি আরও বলেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বেশি সময় খালি শরীরে রাখা হলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। এ কারণে বাচ্চাদের প্রস্রাব-পায়খানা করানোর পর যত দ্রুত সম্ভব গরম কাপড় পরিয়ে দিতে হবে। তবে এ সময় হাঁপানি রোগীদের কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। তাদের ক্ষেত্রেও কমন কোল্ড দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে দেরি না করে রোগীকে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।
সকালের-সময় / এম এফ