চসিকের বিদ্যুৎ শাখার প্রকৌশলী আমিরের জাল-জালিয়াতি!


১১ জানুয়ারি, ২০২১ ৬:২৮ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) বিদ্যুৎ শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমির আবদুল্লাহ খাঁন। বর্তমানে তার বয়স ৪৪ বছর। চাকরিতে নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল ৩৭ বছর। অথচ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। এছাড়া প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস। তখনও এ ডিগ্রি অর্জন করেননি তিনি। তারপরও সাত বছর আগে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান আমির। অর্থাৎ ডিপ্লোমা পাস না করেও কোর্স সম্পন্ন হওয়ার সনদ দিয়ে সরকারি চাকরি করে আসছেন।

তথ্য মতে, বোনের জামাই সম্পর্কের তৎকালীন এক প্রধান প্রকৌশলীর প্রচ্ছন্ন প্রভাবে তিনি চাকরি পান। এক্ষেত্রে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। অন্যদিকে তিনি সিটি কর্পোরেশনে চাকরি করলেও চকবাজারের আলী প্লাজায় টিভি-ফ্রিজ মেকানিকের কাজ করেন। অফিস সময়েও তাকে সেখানে পাওয়া যায় অনুসন্ধানে।
হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের দোকানে নিয়মিত টিভি-ফ্রিজের মেরামত করার কাজ করেন তিনি।

সিটি কর্পোরেশনের সংস্থাপন শাখা সূত্র বলছে, আমির আবদুল্লাহ চসিকের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন ২০১৩ সালের ১ আগস্ট। তার যোগদানপত্রে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীর সুপারিশও রয়েছে। নিয়োগের সময় সব ধরনের সত্যায়িত সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও জমা দেননি তিনি। কেননা তখনও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেননি তিনি।

তাহলে সরকারি চাকরি হল কিভাবে?এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রতিবেদক অনুসন্ধানে নামলে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেট্রিক্যাল বিভাগে ১৯৯২-৯২ সেশনের ছাত্র। তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমার ৬ষ্ঠ পর্বের পরীক্ষা অংশ করলেও মোট নয় বিষয়ে ফেল করেন আমির।

উল্লেখ্য, তিনি ১৯৭৬ সালের ৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। এসব বিষয় নিয়ে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ স্বপন কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক সপ্তাহ সময় নেন। ঠিক এক সপ্তাহ পর তিনি জানান, আমির আবদুল্লাহ চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিলেন। তবে পাস করতে পারেননি।

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে প্রতিবেদকের কথার সময় অভিযুক্ত প্রকৌশলী আমির আবদুল্লাহ তা জেনে যান। তারপরই সিটি কর্পোরেশনের সংস্থাপন শাখায় একটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের সনদ জমা দেন। যেখানে ১৯৯২ সালে রেজিস্ট্রেশন করা আমির আমির আবদুল্লাহ খাঁন পাস করেছেন ২০১৬ সালে।

বিষয়টি নিয়ে আরও নিশ্চিত হতে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের রেজিস্টার শাখার সাথে যোগাযোগ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান, সাধারণত রেজিস্ট্রিশনের মেয়াদ থাকে ৮ বছর। ২০০৪ সালের পর তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সের রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করে সরকার। তারপর বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সাথে একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়।

সেই পরীক্ষায় চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অংশ নেওয়া আট জনের একজন আমির আবদুল্লাহ খাঁন। একই বছরের ডিসেম্বরে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করলেও স্থগিত হয় তার পরীক্ষার ফল। বাকি সাতজন সবাই পাস করেন। কারণ হিসেবে বোর্ড থেকে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীর তথ্যাদি সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। পরে আমির আবদুল্লাহ বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তথ্যগুলো জমা দেন।

তারপর ফলাফল প্রকাশ করে কারিগরি বোর্ড। এতে দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন তিনি। তবে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে সনদ তোলেন ২০১৮ সালের ২৭ মে। অর্থাৎ চাকরিতে যোগদানের দুই বছর পর ডিপ্লোমা পাস করেন এবং পাঁচ বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ উত্তোলন করেন।

এসব বিষয় নিয়ে জানতে আমির আবদুল্লাহ খানের মুঠোফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভি করেননি।

একই বিষয়ে চসিকের সচিব আবু শাহেদ চৌধুরীর জানান, কিছুদিন আগে মুঠোফোনে আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী আমির আবদুল্লাহ খাঁনের ডিপ্লোমা পাসের সনদে ঝামেলা আছে বলে মুঠোফোনে অজানা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। তখন আমি সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেই।

এরপরই তিনি সনদ জমা দেন। তবে তিনি যে নিয়োগ পাওয়ার পর পাস করেছেন বা নিয়োগের সময় তার বয়স ৩৭ ছিল, সেটা আমার জানা নেই। যদি এমনটা করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই অন্যায় করেছেন। তথ্য গোপন করে সরকারি চাকরি নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আইন অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: পূর্বদেশ

0Shares

আরো সংবাদ