চমেক হাসপাতালে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ৪ পুলিশসহ আহত ১৪


১৩ জুলাই, ২০২০ ১২:২৮ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকাল সাড়ে দশটার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় দুপক্ষের ৮/১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের চার সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া।

তবে আহত সকলেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলেও জানান পরিদর্শক জহিরুল হক। শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় দুটি হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানুলা দিতে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমকে সাথে নিয়ে সকাল দশটার দিকে চমেক হাসপাতালে যান শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তাঁরা হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে প্রবেশের পর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন।

পরিচালকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপ-মন্ত্রী চলে যাওয়ার মুহূর্তে দুই পক্ষই স্লোগান দিতে থাকে। পরে গাড়িতে করে উপ-মন্ত্রী ও রেজাউল করিম হাসপাতাল ছাড়লে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়।

মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক জানান, উপ-মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের উত্তেজনা থামাতে গিয়ে পুলিশ ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে। এতে কয়েকজন ‘সামান্য আহত’ হন। ঘটনা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে শিক্ষা উপ-মন্ত্রীর অনুসারী পরিচয়ে ছাত্রলীগের অন্য একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসে সক্রিয়। গ্রুপটি সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই দুপক্ষ এ পর্যন্ত কয়েক দফায় মুখোমুখি হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমীন শিমুল সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রী মহোদয় ক্যাম্পাসে আসার পর আমরা তাকে স্বাগত জানাই এবং পরিচালকের কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দিই। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মহোদয় বিদায় নেয়ার পর তাদের সাথে থাকা কিছু বহিরাগত আমাদের কর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা করে। এতে আমাদের ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন।

ছাত্রলীগের অপর গ্রুপের খোরশেদুল ইসলাম বলেন, উপমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর মেয়রের অনুসারী ইন্টার্ন ডাক্তার, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ ২০-২৫ জন আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ছয়জন আহত হয়। চিকিৎসা নিতে গেলেও তারা বাধা দেয়। পরে চিকিৎসা নিয়ে পুলিশ প্রহরায় আমরা বেরিয়ে আসি।

নিজেদের গ্রুপের ফরহাদুল ইসলাম, ইমন সিকদার, অভিজিৎ দাশ, কনক দেবনাথ ও হোসাইফা কবীরসহ তিনি নিজেও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন খোরশেদুল ইসলাম।

এ ঘটনায় আগে থেকেই দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন ছিল জানিয়ে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল হক ভূইয়া বলেন, আগে থেকে পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। দুই পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাস থমথমে থাকলেও পরে স্বাভাবিক হয় বলেও জানান তিনি।

0Shares

আরো সংবাদ