চট্টগ্রাম কারাগারে দুই মাসে বন্দির সংখ্যা বেড়েছে ৬৮৪ জন


২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ২:৩৫ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গত দুই মাসে বন্দির সংখ্যা বেড়েছে ৬৮৪ জন। দুই মাস আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারে বন্দির সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৪৭৬ জন। রবিবার (২৪ নভেম্বর) পর্যন্ত বন্দির সংখ্যা চার হাজার ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধীদের গ্রেফতার বেড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, দুই হাজার ১১৪ পুরুষ এবং ১৩৫ জনসহ দুই হাজার ২৪৯ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন চার হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে চার হাজার একজন পুরুষ এবং ১৫৯ জন নারী। পুরুষ বন্দির মধ্যে সাধারণ হাজতি দুই হাজার ১৩৮ জন। দায়রা হাজতি ৯৩০ জন।

সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত ৫৯৭ জন, বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ জন। এ ছাড়া আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ২৪ জন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১৭৬ জন। কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ৫৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬২১ জন। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য আছেন ১৭৩ জন। বিদেশি বন্দি আছেন সাত জন। কারাগারে মায়ের সঙ্গে শিশু বসবাস করছে ২৯ জন। এর মধ্যে ১২ জন পুরুষ, বাকিরা নারী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামে সর্বমোট ৩৩টি থানা রয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে থানার সংখ্যা ১৬ এবং জেলায় থানার সংখ্যা ১৭টি। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নগর ও জেলার বেশ কিছু থানায় হামলা করে বিক্ষুব্ধ লোকজন। এতে অস্ত্র ও গুলি লুটের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি থানা এবং পুলিশের স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। এরপর থেকে থানাগুলোতে কর্মরত পুলিশের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থবিরতা কাটিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতারে সক্রিয় অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

নগর পুলিশ জানিয়েছে, গত অক্টোবর মাসে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে ১৭২ জনকে গ্রেফতার করেছে নগরের ১৬ থানা পুলিশ। এর মধ্যে দস্যুতা-ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় ৪৮ জন এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৫ এবং পরোয়ানাভুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।

চুরির মামলায় ৩৮ এবং পরোয়ানাভুক্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। দ্রুত বিচার আইনে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া জেলার ১৭টি থানা পুলিশের অভিযানে একাধিক আসামি গ্রেফতার হন। এর বাইরেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, র‌্যাব, বিজিবি এবং যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন অনেক আসামি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, পুলিশের মনোবল যখন একেবারেই ভেঙে গিয়েছিল সেই অবস্থা থেকে এখন সিএমপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরা পূর্ণ পরিসরে আবার কাজ শুরু করেছি। বলতে গেলে, আগের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে আমরা কাজ করছি। আমাদের মেট্রোপলিটন এলাকার ১৬টি থানা, ট্রাফিক বিভাগ এবং গোয়েন্দা বিভাগ পুরোপুরি কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি থানার ৩০৪টি পেট্রোল টিম নিয়মিত কাজ করছে। নিয়মিত আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।

দুই মাসে বন্দি বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর কারাগারে বন্দি কিছুটা কমেছিল। কারণ তখন সারা দেশে প্রশাসনিক কার্যক্রম কিছুটা স্থবির ছিল। এখন সবকিছুই আগের মতো স্বাভাবিক হয়েছে।

অপরাধীরা আবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হচ্ছে। তবে কারাগার থেকে যে পরিমাণ বন্দি জামিন পাচ্ছেন, তার চেয়ে কিছুটা বেশি আসছেন। এ কারণে গত দুই মাসে বন্দির সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে কারাগারে বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ উল্লেখ করে ইকবাল হোসেন আরও বলেন, এরপরও বন্দিদের রাখতে সমস্যা হচ্ছে না। একসময় এই কারাগারে আরও বেশি বন্দি ছিল। সে তুলনায় কম আছে।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ