চট্টগ্রামে ৩৮টি ক্লিনিকের ছাড়পত্র বাতিল করেছে পরিবেশ অধিদফতরের। স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় পরিবেশ অধিদফতর তাদের ছাড়পত্র বাতিল করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নবায়ন করতে না পারলে রোগ নিরূপণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১৯ আগস্ট ৩৮ প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে এ সংক্রান্ত তালিকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী।
যেসব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে:
নগরীর উত্তর আগ্রাবাদের নিষ্কৃতি ক্লিনিক, বাকলিয়া ও কুলগাঁও অক্সিজেন মোড়ের ব্র্যাক যক্ষ্মা নির্ণয় কেন্দ্র, মনসুরাবাদ, জামালখান এবং দেওয়ানহাটের সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের তিনটি শাখা, আকবরশাহ এবং চাঁন্দগাওয়ের ইমেজ সূর্যের হাসি ক্লিনিকের দুটি শাখা, চকবাজারের উডল্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জামালখানের ল্যাব ওয়ান হেলথ সার্ভিসেস, খুলশীর চট্টগ্রাম কিডনি ফাউন্ডেশন, প্রবর্তক মোড়ের বাংলাদেশ আই হসপিটাল, খুলশীর সিইআইটিসি লেন্স প্রসেসিং ইউনিট, মেহেদীবাগের হরমোন ও ডিএনএ সেন্টার এবং কে বি ফজলুল কাদের চৌধুরী রোড়ের কর্ণফুলী ব্লাড অ্যান্ড থ্যালাসেমিয়া সেন্টার।
এ ছাড়া নগরীর হালিশহরের অর্গান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চাঁন্দগাওয়ের রয়েল প্যাথলজি সেন্টার, মেডিকেল স্কয়ার, হামজারবাগের সিটি লাইফ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকার সানওয়ে মেডিক্যাল সেন্টারের দুটি শাখা, পাঁচলাইশ এলাকার দি হেলথ হোম প্রাইভেট লিমিটেড ও চিটাগং কেমোথেরাপি সেল সেন্টার, আন্দরকিল্লা এলাকার মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নতুন বাজার এলাকার কিউম্যাক্স হেলথ কেয়ার, হালিশহরের মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফ্রি-পোর্ট এলাকার মডার্ন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, পতেঙ্গার কাটগড় ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারেরও ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া ছাড়পত্র বাতিলের তালিকায় আরও আছে:
নগরীর হালিশহরের এম এন ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সেন্টার, ঈদগাঁ এলাকার মেডিসেভ প্যাথলজি ল্যাব, সদরঘাটের পালস ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি অ্যান্ড ডায়াগনসিস, কোতোয়ালী থানা এলাকার দি মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি, আগ্রাবাদের মেডিসিন মেডিক্যাল সার্ভিসেস এবং প্যানাসিয়া ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি প্রপার্টিজ লিমিটেড, নাসিরাবাদের বায়েজিদ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কালুরঘাটের হেলথ লাইন ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মেডি ম্যাক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী বলেন, ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কয়েকটি প্যাথলজির সঙ্গে ক্লিনিকও পরিচালনা করে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস, পরমাণু শক্তি কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার লাইসেন্স পরিবেশ অধিদফতরে জমা দিতে হয়।
এরপর আমরা ছাড়পত্র দিই। সম্প্রতি আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি যাচাইয়ের উদ্যোগ নিই। সেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের মূল জায়গায় ঘাপলা পাওয়া গেছে। তাদের স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। দীর্ঘসময় ধরে নবায়নেরও উদ্যোগ নেয়নি। এ জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে আমাদের ছাড়পত্র বাতিল করেছি।
আমরা আরও কিছুদিন দেখব। তারা যদি স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নবায়ন করে আমাদের কাছে জমা দেয়, তখন আমরা কিছু জরিমানা করে আবারও ছাড়পত্র দেব। কিন্তু সেটা যদি না করে তাহলে আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালাব। সেগুলো বন্ধ করে দেব। প্রয়োজনে সেগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে’ বলেন নুরুল্লাহ নুরী।
সকালের-সময়/এমএফ