চট্টগ্রামে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আগামী (২৬শে আগষ্ট ) শুক্রবার রাত ১০ থেকে (২৭শে আগষ্ট) শনিবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত হাটহাজারী নন্দীর দিঘীতে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। এবার প্রতিটি টিকিটের মূল্য রাখা হচ্ছে ১৬ হাজার টাকা এবং আসন থাকছে ৪২টি।
শুক্রবার হাটহাজারী নন্দীর হাট বাজারের দক্ষিণ পূর্ব পার্শ্বে, রাস্তা সংলগ্ন নন্দীর দিঘীতে জড়ো হবেন মৎস্য শিকারিরা। তাদের কারও হাতে থাকবে বড়শি, আবার কারও হাতে থাকবে মাছের খাবার। দেখতে উৎসব-আনন্দে মাছ শিকার মনে হলেও এর আড়ালে চলবে জমজমাট জুয়ার আসর।
এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পুকুর, ডেবা, ও দিঘীতে আয়োজন করা হচ্ছে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার। আজ এই এলাকায়, তো কাল অন্য এলাকায়। পরশু এই জেলায় হলে, পরদিন আরেক জেলায়। স্থান পাল্টালেও মূল আয়োজক প্রায় একই সিন্ডিকেট। খালি চোখে পুকুর বা দিঘীর মালিককে প্রতিযোগিতার আয়োজক হিসেবে দেখা গেলেও নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র, যারা দেশজুড়ে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা আয়োজন করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের ৮৫ নং মুরাদপুরের সিরাজ বিল্ডিং এ। তারা নন্দীর দিঘীর আয়োজক সিন্ডিকেট। তাদের সিন্ডিকেট রয়েছে, হাটহাজারীর উজ্জল বড়শী বিতানের উজ্জল, মৌ বড়শী বিতানের দোলন বাবু, ভোলার দোকানের বড় বদি, এবং সিরাজের নাতী আবরার ইসলাম, মোরশেদ, ইমন, টুটুলসহ আরো অনেকে।

এ বিষয়ে নন্দীর দিঘীর আয়োজক কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলামের নাতী আবরার ইসলাম সকালের-সময়কে বলেন, বড়শী প্রতিযোগিতা করতে হলে প্রশাসনের অনুমতি লাগে, কিন্তু আমরা কোন পুরস্কার দিচ্ছি না বিধায় তাদের অনুমতি আমাদের প্রয়োজন নেই। তবে স্থানীয় নেতা পাতি নেতা ও কমিশনারদের ম্যানেস করে তা করতে হয়। না হয় তারা বাধা দেয়।কি কারণে বাধা দেয় জানতে চাইলে তিনি লাইন কেটে দেন।
আর এদিকে পাহাড়তলীর ডিটি রোডের খালেক ও মালেক বড়শি বিতান, আসলাম বড়শি বিতান ও ফোরস্টার বড়শি বিতান, আগ্রাবাদের শাহ আমানত বড়শি বিতান, বকশির হাটের আলেক শাহ বড়শি বিতান, সাতকানিয়ার কেরানিহাটের জামাল বড়শি বিতান, লোহাগাড়ার আমিরাবাদের শাহপীর বড়শি বিতান ও কুমিল্লায় মিজানুর রহমানদের কাছে পাওয়া যায় এইসব জুয়ার টিকেট। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর মালিকদের নিয়েই উক্ত চক্রটি গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।
বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতার একটি বড় স্পট হচ্ছে চট্টগ্রামের ভেলুয়ার দিঘী, আগ্রাবাদ ডেবা, নন্দীর দিঘীসহ আরো অনেক দিঘী ও ডেবা। সেখানে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে টিকিটের মূল্য হিসেবে আদায় করা হয় ১৬-২৫ হাজার টাকা। আবার সর্বোচ্চ ৩৫-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সীট বেচাকেনা হয়। যদিও এসব দিঘীতে তেমন মাছ নেই। প্রতিযোগিতার আগে বাইরে থেকে কিছু বড় বড় মাছ এনে দিঘীতে ফেলা হয়। যার কারণে ছিপ ফেলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে একটি মাছও পায়না এমন অনেক মৎস্য শিকারীও আছেন।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী যিনি সবচেয়ে বড় মাছ ধরবে, তাকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫ লাখ টাকা তুলে দেয়া হয়। দ্বিতীয় পুরস্কার চার লাখ টাকা, তৃতীয় পুরস্কার দুই লাখ টাকা, চতুর্থ পুরস্কার এক লাখ টাকা দেয়া হয়। পঞ্চম পুরস্কার ৮০ হাজার, ৬ষ্ঠ পুরস্কার ৭৫ হাজার, ৭ম পুরস্কার ৭০ হাজার, ৮ম পুরস্কার ৬৮ হাজার, ৯ম পুরস্কার ৬৭ হাজার, ১০ম পুরস্কার ৬৬ হাজার ও ১১তম পুরস্কার হিসেবে ৬৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।
একজন প্রবীণ মৎস্য শিকারী বলেন, বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা হল এক ধরনের জুয়া খেলা। এর চেয়ে বড় জুয়া আর নেই। দেশের কিছু জায়গায় লাখ টাকায়ও টিকিট কিনতে হয়। এই জুয়ায় পড়ে অনেকে ঘরবাড়ি বেচে দিয়েছে, অনেকের পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে।
এই বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ২ কর্মকর্তা সকালের-সময়কে বলেন, বড়শী প্রতিযোগিতায় এই পর্যন্ত কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি, কেউ যদি আইন অমান্য করে প্রতিযোগিতার নামে জুয়া খেলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রিয় পাঠক–বার বার পাহাড়তলী ভেলুয়ার দিঘীতে চলছে বড়শী প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর, আগামী পর্বে থাকছে এই সিন্ডিকেট নিয়ে প্রতিবেদন।
সকালের-সময়/এসএপি