বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির সন্দেহে কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (কেএসআরএম) সীতাকুণ্ড অফিস থেকে কম্পিউটারসহ বেশকিছু নথিপত্র জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ শাখা।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কারখানায় রড উৎপাদন কম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে কেএসআরএম। প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট অফিসে রড উৎপাদনের যে তথ্য দিয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বিক্রির তথ্য পেয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ শাখা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে কেএসআরএম। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আছে কেএসআরএম’র বিরুদ্ধে। পরে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দাবিনামা করলে তা পরিশোধে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ভ্যাট কর্মকর্তাদের সন্দেহের তালিকায় থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, গত ২২ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কারখানার অফিসে অভিযান চালিয়ে উৎপাদন, বিক্রি ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণে থাকা দুটি কম্পিউটারের পিসি ও নথিপত্র জব্দ করে আগ্রাবাদ ভ্যাট অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নথি পর্যালোচনা শেষে জানা যাবে কত টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে কেএসআরএম।
অভিযান পরিচালনাকারী দলের একজন সদস্য বলেন, কেএসআরএম সীতাকুণ্ডের কারখানায় উৎপাদন কম দেখিয়ে বিপুল ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আসে। বিষয়টি আমলে নিয়ে কমিশনার মহোদয় অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। গত মঙ্গলবার (২২ জুন) সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ভ্যাট অফিসে উৎপাদনের যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে কম্পিউটার ও নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ঠিক কত টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে তা জানতে জব্দ করা নথিপত্রগুলো পর্যালোচনা চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে।
এসএস