এখন দইজ্জার তল দিয়েও গাড়ি চলে—প্রধানমন্ত্রী


২৮ অক্টোবর, ২০২৩ ৫:২০ : অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে আপনাদের (চট্টগ্রামবাসীদের) জন্য আমি একটি ছোট্ট উপহার নিয়ে এসেছি। এটি হলো টানেল। এখন দইজ্জার (চট্টগ্রামের এক অঞ্চলের ভাষায় সাগর বা দরিয়া)। তল দিয়ে গাড়ি চলে। দক্ষিণ এশিয়ায় এত বড় টানেল আর নেই। আগামীকাল এই টানেল জনসাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমাদেরর সরকারের লক্ষ্য, দেশ আরো উন্নত হোক। এখন ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে চট্টগ্রামের ভেতর ঢুকে যানজটে পড়তে হবে না। টানেলটি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। যা দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের পর আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) মাঠে এক জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা দেশকে গড়ে তুলছি। আমি আপনাদের কাছে একটা উপহার নিয়ে এসেছি। নদীর তল দিয়ে গাড়ি চলে। ঘুটঘুট করে বাড়ি চলে যাবেন। এ প্রকল্পে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যারা জড়িত ছিলেন, দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, সবাইকে আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আরও ১১টি প্রকল্প আপনাদের জন্য উপহার হিসেবে উদ্বোধন করে দিলাম। আজকের এ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে গত নির্বাচনে আপনারা ভোট দিয়েছিলেন বলে। নৌকা যখনই সরকারে এসেছে, দেশ ও মানুষের উন্নয়ন করেছে।

তিনি বলেন, আমি তো সবই হারিয়েছি ৭৫-এর ১৫ আগস্ট। ছয় বছর দেশে আসতে দেয়নি জিয়াউর রহমান। একরকম জোর করেই দেশে ফেরা। আসার পর থেকে বাংলাদেশে মানুষের জন্য কাজ করছি। চাই, কীভাবে দেশের মানুষকে ভালো রাখা যায়। এ চট্টগ্রামের কত নেতা ছিলেন, যারা জীবন দিয়ে সংগ্রাম করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া এবং ফিলিস্তিন যুদ্ধে সারা বিশ্বেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। তাই আমরা ১ কোটি মানুষকে পারিবারিক কার্ড করে দিয়েছি। এর মাধ্যমে তাদেরকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্বে যুদ্ধের ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। যেই কারণে নিম্ন আয়ের মানুষকে এক কোটি কার্ড করে দিয়েছি। কম মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন। একেবারে হতদরিদ্র মানুষকে চাল দিচ্ছি। চট্টগ্রামসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে আমরা যত কাজ করেছি, আর কখনো কেউ করেনি। বিএনপি ও খালেদা জিয়া লুটপাটে ব্যস্ত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার বাংলায় একটা মানুষও গৃহহীন-ভূমিহীন থাকবে না। প্রত্যেককে ঘর করে দিচ্ছি। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিচ্চি। যারা বিদেশে যায়, জমি বিক্রি করে যাবেন না। আমাদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমরা দেশে উন্নয়ন করি। আর বিএনপি-জামায়াত দেশ ধ্বংস করে। আগুন দিয়ে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার ইতিহাস তাদের। জাতির পিতা ও তার পরিবারের হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত। তারা খুন করা ছাড়া আর কিছু জানে না। তারা আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মী হত্যা করেছে। তারা যখন ক্ষমতায় থাকে দুর্নীতি ও লুটপাট করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেনেড হামলা করে আমাকে দিনে-দুপুরে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওই হামলায় ২২ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রাম ছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই সন্ত্রাস দূর করে একটি শান্তির অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলেছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

সেখানে চীনের রাষ্ট্রপতির পক্ষে পাঠানো একটি পত্র পাঠ করেন দেশটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

এর আগে বেলা ১১টার পর হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়ক পথে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম তীরে পৌঁছান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু টানেলের একটি ফলক উন্মোচন করেন। সেখান থেকে টোল দিয়ে টানেল পার হন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীরা।

এসএস/ফোরকান

0Shares

আরো সংবাদ