তামিমের ভাইরাস জ্বর, অনিশ্চিত ঘরের মাঠে খেলা


১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৩:১৯ : অপরাহ্ণ

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট হওয়ায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অঞ্চলভিত্তিক দল গঠনের সুযোগ নেই। নিজ নিজ বিভাগীয় শহরের হয়ে খেলার সুযোগ মেলে না জাতীয় দলের তারকাদের। এছাড়া টুর্নামেন্টের ভেন্যুর সংখ্যাও মাত্র ৩টি হওয়ায় সাত দলের খেলোয়াড়রা নিজ নিজ শহরের মাঠেও খেলতে পারেন না।

সেদিন থেকে খানিক ভাগ্যবানই বলা যায় জাতীয় দলের তারকা ওপেনার তামিম ইকবালকে। কেননা, যে দলেই খেলেন না কেন- বিপিএলের প্রতি আসরেই তিনি সুযোগ পান নিজ শহরের চেনা মাঠে, চেনা মানুষদের সামনে কয়েক ম্যাচ খেলার। এবারও বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বে অন্তত তিনটি ম্যাচ খেলতে পারতেন ঢাকা প্লাটুনের এ বাঁহাতি ওপেনার।

কিন্তু বিধিবাম! নিজ শহরে পৌঁছেই তামিম আক্রান্ত হয়েছেন জ্বরে। যা তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে সোজা হাসপাতালে। ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে কুচকির চোট মিলিয়ে অন্তত ৪ দিন মাঠের বাইরেই থাকতে হবে দেশসেরা ওপেনারকে- গতকাল (সোমবার) এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবির চিকিৎসক ডা. দেবাশিষ চৌধুরী।

আজ (মঙ্গলবার) দেবাশিষ চৌধুরীর সঙ্গে সুর মেলালেন ঢাকা প্লাটুনের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও। সাফ জানিয়েছেন, অন্তত চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে তামিমের খেলার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। তবে তামিম থাকবেন না ধরেই ইতোমধ্যে নিজেদের পরিকল্পনাও সাজিয়ে ফেলেছে ঢাকা।

তাই বাঁহাতি ড্যাশিং ওপেনারের অনুপস্থিতিতে চিন্তার ভাঁজ নেই ঢাকা কোচের কপালে। বরং যথেষ্ট সময় দিয়ে ইনজুরি কাটিয়ে ভালোভাবেই তামিমকে মাঠে ফিরতে দেখতে চান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

তামিমের বাড়ির কাছের মাঠ এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমে এই ওপেনারের সর্বশেষ অবস্থার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সালাউদ্দিন জানান, (তামিমের বর্তমান অবস্থা) কঠিন। গত দুইদিন প্রচণ্ড জ্বর। এখন ও হাসপাতালে আছে। আমার মনে হয়, সুস্থ হলেও হয়তো কঠিন হয়ে যাবে তার জন্য খেলা। আমরাও আসলে তার বিকল্প চিন্তা করে রেখেছি। আমি ধরে নিয়েছি আগামীকাল (বুধবার, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে) খেলতে পারবে না।

সালাউদ্দিন এক ম্যাচ বাইরে থাকার কথা বললেও, দেবাশিষ জানিয়েছিলেন পুরো চট্টগ্রাম পর্ব থেকেই ছিটকে গেছেন তামিম। ভাগ্য সহায় হলে হয়তো একটি ম্যাচ খেলতে পারবেন তিনি। এ কথার প্রেক্ষিতেই ঢাকার কোচকে জিজ্ঞেস করা হয়, আসলেই চট্টগ্রাম পর্ব শেষ কি না তার দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের?

জবাবে তামিমের গুরু বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই জানান, যেহেতু চট্টগ্রাম পর্ব বেশ লম্বা এবং পরবর্তী ম্যাচের আগে সময়ও আছে কিছু দিন- তাই পরের ম্যাচগুলোতে তামিম খেলতেও পারেন। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম পর্বে ঢাকার ম্যাচ তিনটি যথাক্রমে ১৮, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর।

চট্টগ্রাম পর্বে তামিমের থাকা না থাকার বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, যেহেতু আমাদের পরবর্তী ম্যাচ একটু দেরিতে আছে, তো আমার মনে হয় তামিম যদি কালকেও সুস্থ অনুভব করে তাহলে মাঠে নেমে যাবে। তবে আমরা এখনই কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। অনেক লম্বা টুর্নামেন্ট। তাকে আমরা যথেষ্ট সময় দিতে চাই। আরও কয়েকদিন যাক। মাঝে বিরতি আছে। সুস্থ হলে ২৩-২৪ তারিখের ম্যাচ খেলতেও পারে।

এদিকে তামিমের বিকল্প চিন্তা করে রাখলেও, তার অনুপস্থিতি যে দলের কাজ কঠিন করবে তা মেনে নিয়েছেন ঢাকার কোচ। তিনি বলেন, আসলে আমাদের ফিকশ্চারটা এখন একটু কঠিন হয়ে গেছে।

পরপর তিনটা ম্যাচ খেলা টি-টোয়েন্টি হলেও সহজ না, যে কোনো দলের জন্যই অনেক বেশি চাপের। তামিম না থাকলে অবশ্যই যে কোনো দলের জন্য ক্ষতি। আমাদের মূল ব্যাটসম্যান, রানেও ফিরেছিল অনেক দিন পরে। তো ওর না থাকাটা অবশ্যই আমাদের ক্ষতি করবে।

0Shares

আরো সংবাদ