উত্তর মিয়ানমারে একটি রত্ন পাথরের খনিতে ভূমিধসে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা কমপক্ষে ১১৩টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন। কাচিন রাজ্যের হপাকান্ত এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সংঘটিত এ ভূমিধসে হতাহতদের সন্ধানে উদ্ধার কাজ চলছে। মিয়ানমারের ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায় ভারী বৃষ্টিপাতে কাদা ধসে পড়ায় রত্ন পাথর সংগ্রহকারী ওই মানুষগুলো চাপা পড়েন।
রত্ন পাথর আহরণকারী বিশ্বের বৃহত্তম দেশ মিয়ানমারে এরকম খনি দুর্ঘটনা আগেও সংঘটিত হয়েছে। দেশটির ফায়ার সার্ভিসের ফেসবুক পোস্টে লিখা হয়, রত্ন পাথর আহরণকারীরা কাদার ঢেউয়ে তলিয়ে যায় যা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টিপাতের কারণে রত্ন পাথর সংগ্রহ করতে যাওয়ার ব্যাপারে পুলিশ বুধবার একটি সতর্কতা জারি করেছিল যা অমান্য করে অনেকেই আজ বৃহস্পতিবার সেখানে রত্ন পাথর সংগ্রহ করতে যায়।
বার্তা সংস্থা বিবিসি’র ব্যাংকক ব্যুরো থেকে জোনাথন হেড জানান, একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বড় একটি জলাশয়ে বিশাল একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে যার ফলে তার পাড়গুলো ধসে পড়ে পানি উপচে নিচে উপত্যকায় দিয়ে পড়ে। মিয়ানমার ফায়ার সার্ভিসের ছবিতে উদ্ধারকারীদের তারপলিনে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
মং খাইং নামে ৩৮ বছর বয়সী এক খনি শ্রমিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপের কাছে কাদার বিশাল একটি স্তূপ দেখেছেন আর লোকজনকে ‘দৌড়াও, দৌড়াও’ বলে চিৎকার করতে শোনেন।
তিনি বলেন, এক মিনিটের মধ্যেই পাহাড়ের নিচে সবগুলো লোক হারিয়ে যায়। আমি খুব ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি। কাদায় আটকে পড়া লোকজন সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল কিন্তু কেউ তাদের সাহায্য করতে পারেনি।